• শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৭ ১৪৩১

  • || ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি মৌসুমি ফলের

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২৩  

চলছে মৌসুমি ফলের ভরা মৌসুম। আম, জাম, কাঠাল, লিচুতে সয়লাব দেশের ফল বাজার। রাজধানী ঢাকাও ব্যতিক্রম নয়। ঢাকা শহরের বাজার-ঘাট, ফুটপাত সবজায়গাতেই পর্যাপ্ত পরিমাণে দেখা যাচ্ছে মৌসুমি নানা ফল। ঢাকা শহরে ফল সরবরাহের পাইকারি বাজার হিসেবে প্রসিদ্ধ বাদামতলী ও ওয়াইজঘাটের ফল বাজার। বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে সদরঘাটের অদূরে অবস্থিত এ দুই ফল বাজারে ভরা মৌসুমে বেচাকেনা চলছে মোটামুটি ভালোই। 

সরেজমিনে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, এ মৌসুমে লিচুর ব্যবসা এখন খুব ভালো চলছে। লাভও হচ্ছে লিচুতে ভালো। তবে এবার আমের উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হাওয়াতে দাম কিছুটা কম। সেজন্য আমের ব্যবসায় লাভ তুলনামূলক কম হচ্ছে বলে দাবি তাদের। 

বাদামতলীর রাসেল এন্টার প্রাইজের পাভেল হাওলাদার বলেন, এ বছর প্রতিদিন ২০০-৩০০ ক্যারেট আম বিক্রি হচ্ছে। গতবছর দিনে গড়ে বিক্রি হয়েছিল ৩০০-৪০০ ক্যারেট করে। বিক্রি এখনো গতবারের মতো জমে ওঠেনি। দেখি আরো কিছুদিন। সামনে হয়ত বিক্রি বাড়তেও পারে। 

ওয়াইজঘাটের নাঈম-মুন্না ফুড স্টোরের জসিম উদ্দিনের কণ্ঠে শোনা গেল একটু ভিন্ন সুর। তিনি বলেন, বিক্রি আল্লাহর রহমতে ভালোই। প্রতিদিনই ৩-৪ লাখ পিস লিচু বিক্রি হচ্ছে আমার আড়ৎ থেকে। আম বিক্রি ৪০০-৫০০ ক্যারেট করে। লাভ কেমন হচ্ছে জিজ্ঞেস করলে বলেন, প্রতি ক্যারেটে ৭০-১০০ টাকা করে লাভ থাকে। আর, লিচু প্রতি হাজারে লাভ থাকে ১০০-২০০ টাকা। সব মিলিয়ে আল্লাহ ভালো রেখেছে। 

ওয়াইজঘাটের ঝিনাইদহ সিন্ডিকেট ফল দোকানের মো. ছিদ্দিকের কাছে ফলের দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ক্যারেটসহ বিক্রি করি। পাইকারি হিসেবে যদি কেজিপ্রতি দাম বলি তাহলে মানভেদে ৪০-৭০ টাকা করে বিক্রি করছি। লিচু ১০০ পিস ৩০০-৪০০ করে বিক্রি হচ্ছে। 

আরেক ব্যবসায়ী ইকবাল হাসান জানান, তারা কমিশন সিস্টেমে ফল ব্যবসা করেন। তারা গ্রামের ফল চাষিদের থেকে ফল নিয়ে আসেন। বিক্রির পর তারা মোট আয়ের দশ শতাংশ টাকা রাখেন। বাকিটা যায় চাষির কাছে। 

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, এবার আমের ফলন অনেক বেশি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় ফল দেশে বেশি। তাই গতবারের মতো ভালো দাম পাচ্ছি না। তিনি জানান, পাইকারি হিসেবে হিমসাগর কেজিতে ২৫-৬০ টাকা, ল্যাংড়া ২০-৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তার দাবি ব্যবসা আরো জমে উঠতে কিছুদিন সময় লাগবে। 

এদিকে আম আর লিচুর ভিড়ে অন্য ফলের ব্যবসা একটু ঢাকা পড়লেও বাদামতলী, ওয়াইজঘাটে দেখা মিলল অন্যান্য ফলেরও। কাঁঠাল, জাম, তাল, আপেল, আঙুরসহ বিক্রি নানাপদের ফল। 

কাঁঠাল ব্যবসায়ী মো. বাবুল বলেন, কাঁঠালের বিক্রি-বাট্টা ভালোই। শহরে কাঁঠাল একটু কমই পাওয়া যায়। তাই এখানে ক্রেতা পাচ্ছি ভালো। প্রতি পিস কাঁঠাল আকারভেদে ৩৫০-৪৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে আমার এখানে। প্রতি পিসে লাভ থাকছে ৫০-৭০ টাকা করে। 

সবমিলিয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফলের ব্যবসাটা আরো জমে উঠবে। ক্রেতাও দিন দিন বাড়বে বলে প্রত্যাশা তাদের।