• মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ২০ ১৪৩০

  • || ২২ শা'বান ১৪৪৫

সর্বশেষ:
ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ নিশ্চিত করুন: প্রধানমন্ত্রী কোনো অজুহাতেই যৌন নিপীড়ককে ছাড় নয়: শিক্ষামন্ত্রী স্পর্শকাতর মামলার সাজা নিশ্চিত করতে হবে: আইজিপি চলতি মাসেই একাধিক কালবৈশাখীর শঙ্কা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশদ্রোহীরা মানুষকে কষ্ট দেয়: নাছিম

‘আগের মতো কেউ কেনে না, কোনো রকমে বাঁচি আছি’

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২৩  

বয়স সত্তর ছুই ছুই। মুখে স্বেত শুভ্র দাড়ি। কাঁধে ঝোলানো মাদুরের ভার। এভাবে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মাদুর বিক্রি করে সংসার চালান আসরাফ আলি।  রংপুর শহরের আশরতপুর এলাকায় মাদুর বিক্রি করতে দেখা যায় আসরাফ আলিকে। 

তিনি জানান, আগের মতো আর বেচা-বিক্রি হয় না। মানুষ নিতে চায় না দাম বেশি। দিন শেষে যা বিক্রি হয় তা দিয়ে কোন রকমে বাঁচি আছি।

আসরাফ আলির বাড়ি রংপুর জেলার নজিরের হাট এলাকায়। ছেলে মেয়ের বিয়ে হওয়ার পর সবাই আলাদা থাকে। মাদুর বিক্রি করেই দুই স্বামী-স্ত্রীর সংসার চলছে। তিনি নিয়মিত রংপুর শহর ও আশেপাশের গ্রামগুলোতে গিয়ে মাদুর বিক্রি করেন।

আসরাফ আলি জানান, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে মাদুর বিক্রি করছি। আগে কৃষিকাজও করতাম। বয়স হয়েছে অন্য কিছু করতে পারি না। মাদুর নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়েই কোন রকমে চলছে সংসার। প্রতিদিন বের হতে পারি না। দুই দিন মাদুর নিয়ে বের হলে একদিন বিশ্রাম নিতে হয়। নইলে শরীর চলে না। হাপানির সমস্যাও আছে, তাই অল্প ঠাণ্ড লাগলে আর ভার নেওয়া যায় না। তখন বসে থাকা লাগে। যখন হাপানি কমে যায় তখন আবার মাদুর নিয়ে বের হই।

তিনি জানান, মাদুর সংগ্রহের জন্য আগের দিন পাইকারদের কাছ থেকে মাদুর নেওয়া লাগে। পরদিন ওগুলো গ্রামে গ্রামে নিয়ে যেতে হয়। 

তিনি বলেন, সবকিছুর দাম বাড়ার সাথে সাথে মাদুরেরও দাম বেড়েছে। এখন আর আগের মতো কেউ নিতে চায় না দাম বাড়ার কারণে। অনেক দূর যেতে হয় অল্প কয়েকটা বিক্রি করার জন্য। তবে কোনোদিন খুব তাড়াতাড়ি বিক্রি হয় আবার কোনোদিন সারাদিন ঘুরেও শেষ করা যায় না। যেদিন ভালো বিক্রি হয় সেদিন ভালো-মন্দ কিছু কিনতে পারি, তা নাহলে তেমন কিছু কেনা যায় না। জিনিসপত্রের যে দাম, তরিতরকারির কিনলেই টাকা শেষ হয়। আবার এখান থেকে টাকা বাঁচিয়ে নিয়মিত ওষুধও কেনা লাগে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামের কেউ বেশি দামের জিনিস কিনতে চায় না। সেজন্যে অল্প দামের জিনিস বেশি রাখি আর বেশি দামের জিনিস কম টাকায় বিক্রি করতে হয়। কম দামের মাদুরগুলো বেশি বিক্রি হয়।

তিনি বলেন, হামার জন্যে দোয়া করবেন। আল্লাহ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যেন সুস্থ রাখে কারও কাছে যেন হাত পাতা না লাগে।