• মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ২০ ১৪৩০

  • || ২২ শা'বান ১৪৪৫

সর্বশেষ:
ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ নিশ্চিত করুন: প্রধানমন্ত্রী কোনো অজুহাতেই যৌন নিপীড়ককে ছাড় নয়: শিক্ষামন্ত্রী স্পর্শকাতর মামলার সাজা নিশ্চিত করতে হবে: আইজিপি চলতি মাসেই একাধিক কালবৈশাখীর শঙ্কা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশদ্রোহীরা মানুষকে কষ্ট দেয়: নাছিম

জাতীয় সংসদের হুইপরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পান

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৪  

দ্বাদশ জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ হিসেবে মাদারীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি। আর পাঁচজন হুইপের মধ্যে নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাও নিয়োগ পেয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক ছাড়া আরো চারজনকে হুইপ নিয়োগ দিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

অন্য হুইপরা হলেন- দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম, জয়পুরহাট-২ আসনের আবু সাঈদ আল মাহমুদ (স্বপন), নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের মো. নজরুল ইসলাম (বাবু) ও কক্সবাজার-৩ আসনের সাইমুম সরওয়ার (কমল)।

এর মধ্যে ইকবালুর রহিম ও আবু সাঈদ আল মাহমুদ একাদশ সংসদেও হুইপের দায়িত্ব পালন করেছেন।

হুইপরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন

আইন অনুযায়ী- হুইপরা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ও তাদের সমপরিমাণ বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। একজন প্রতিমন্ত্রীর মাসিক বেতন ৯২ হাজার টাকা। দায়িত্ব পাওয়ার পর একজন মন্ত্রী সরকারি ব্যয়ে একটি সুসজ্জিত বাসভবন পান বিনা ভাড়ায়। প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীও একই সুবিধা পেয়ে থাকেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা গণপূর্ত থেকে আবাসন সুবিধা পেলেও চিফ হুইপ ও হুইপরা পান সংসদ সচিবালয় থেকে।

প্রতিমন্ত্রী যদি সরকারি বাড়িতে না থেকে নিজ বাড়ি বা ভাড়া বাড়িতে থাকেন, তাহলে সরকার থেকে তিনি মাসিক ৭০ হাজার টাকা পাবেন। এছাড়া নিজ বাড়ি বা ভাড়া বাড়িতে বসবাস করলে সেটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে তিন মাসের বাড়ি ভাড়ার সমপরিমাণ টাকা পাবেন তারা। চিফ হুইপ ও অন্য হুইপরাও এ সুবিধা নিতে পারেন।

নিজ এলাকার মসজিদ, মন্দির উন্নয়নসহ এলাকার মানুষের দাতব্য কাজে একজন প্রতিমন্ত্রী বছরে পাবেন সাড়ে ৭ লাখ টাকা। এ টাকার মধ্যে প্রতিমন্ত্রী চাইলে একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা দিতে পারেন। একজন প্রতিমন্ত্রীর দফতরে দেশি-বিদেশি অনেকে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন। নির্বাচনি এলাকার মানুষও দেখা করতে আসেন। তাদের আপ্যায়নের জন্য একজন প্রতিমন্ত্রী মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী বছরে বিমা সুবিধা পাবেন ১০ লাখ টাকা।

মন্ত্রিসভার সদস্যরা অসুস্থ হলে তার পুরো চিকিৎসা খরচ সরকার বহন করে। এ ক্ষেত্রে বলা আছে, চিকিৎসা খরচ সীমাহীন। সরকার তার পুরো চিকিৎসার খরচ দেবে। তবে খরচের ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হবে।

দায়িত্ব পাওয়ার পর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী সরকারি খরচে একটি করে গাড়ি সুবিধা পেয়ে থাকেন। এই গাড়ি পরিবহন পুল সরবরাহ করে। তবে চিফ হুইপ ও হুইপদের গাড়ি সরবরাহ করে সংসদ সচিবালয়। এছাড়া সরকারি প্রয়োজনে ভ্রমণের সময় তারা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেকোনও সংস্থা বা দফতর থেকে একটি জিপ গাড়ি পাবেন। জ্বালানি বাবদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দৈনিক ১৮ লিটার জ্বালানি তেলের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন। চিফ হুইপ ও অন্য হুইপরাও এ সুবিধা পাবেন। একজনপ্রতিমন্ত্রী দেশের ভেতরে কোথাও ভ্রমণে গেলে দৈনিক ভাতা পাবেন দুই হাজার টাকা করে। হুইপও এই সুবিধা পাবেন।

সরকারি বাড়ি সাজসজ্জা করতে একজন প্রতিমন্ত্রী বছরে পাবেন চার লাখ টাকা। এছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বাসভবনে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন ব্যয় যা আসবে, সরকার পুরোটাই বহন করবে।

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপসচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব (পিএস) পাবেন। এর বাইরে একজন সহকারী একান্ত সচিব এবং সরকারি কর্মকর্তার বাইরে নিজের পছন্দের একজন সহকারী একান্ত সচিব পেয়ে থাকেন। এছাড়া দুই জন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, একজন জমাদার, একজন আরদালি, দুই জন অফিস সহায়ক ও একজন পাচক পেয়ে থাকেন।

প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী একজন একান্ত সচিব, একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন জমাদার, একজন আরদালি ও একজন অফিস সহায়ক পেয়ে থাকেন। এছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা একটি করে মুঠোফোন পাবেন। এসব সুবিধা চিফ হুইপ ও হুইপরা পাবেন।