• রোববার ১৪ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • চৈত্র ৩০ ১৪৩০

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪৫

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ-ভারতের এক হওয়া উচিত

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২৪  

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও জলবায়ুর পরিবর্তনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে উল্লেখ করেছে সম্প্রতি ঢাকা সফর করে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল। তিন দিনের ঐ সফরে তারা বাংলাদেশকে বিশ্বের সপ্তম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে ঘোষণা করে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া ঢাকা সফরে মার্কিন প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়েও আলোচনা করেছে।

তারা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও জলবায়ু পরিবর্তনকে দ্বৈত চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভাবা প্রয়োজন। কারণ এ দুটি বিষয় বহুমুখী প্রভাব বিস্তার করে।

জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে ২০২২ সালে ৭.১ মিলিয়ন বাংলাদেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছিল, যা ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক একটি সংস্থার তথ্যমতে, ৯০ মিলিয়ন বাংলাদেশি (মোট জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশ) ‘উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ’অঞ্চলে বসবাস করে। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বসবাস ‘খুব উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকায়।

জলবায়ু ঝুঁকির বিষয়টি আর বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও। এর প্রধান কারণ দুই দেশের মধ্যে বিস্তৃত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা এ বনেও জলবায়ু পরিবর্তন ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের ক্রমবর্ধমান উচ্চতা এবং ঘূর্ণিঝড় সুন্দরবনের পরিবেশগত অখণ্ডতার সঙ্গে আপস করছে। এর ফলে এখানকার জলবায়ু ক্রমাগত আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ কারণে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে বসবাসকারী বহু মানুষ অভিবাসনে বাধ্য হচ্ছে। সুতরাং, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা বা জলবায়ুর উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ভারতের এক হওয়া উচিত।