• রোববার   ২৯ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৯

  • || ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশংসা পর্তুগালের মরণোত্তর ‘দ্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পেলেন দুই বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দেশে ভেনামি চিংড়ি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের শিল্পনগরী ও অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে দিনাজপুর: হুইপ ইকবালুর রহিম আরও সময় নিয়ে বৈঠকের প্রস্তুতি নিতে চায় দুই ঢাকা-দিল্লি

হাবিপ্রবিতে র‍্যাগিং প্রতিরোধে ৯ ধরার নীতিমালা প্রকাশ

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২২  


হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) র‍্যাগিং প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের লক্ষ্যে ‘হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাগিং প্রতিরোধ ও প্রতিকার নীতিমালা ২০২১’ শিরোনামে ৯ টি ধরার একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এই নীতিমালায় প্রথম ধারায় নীতিমালার শিরোনাম উল্লেখ করে পরের ধারা ‘প্রয়োগ ও প্রবর্তন’ অনুযায়ী এই নীতিমালা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদেরকে র‍্যাগিং থেকে বিরত রাখতে তৈরী করা হয়েছে এবং এই নীতিমালা অনুযায়ী কেউ র‍্যাগিং-এ লিপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা যায়।

নীতিমালাটিতে শিক্ষার্থী, র‍্যাগিং, এন্টি র‍্যাগিং স্কোয়াড, কর্তৃপক্ষ , শিক্ষক, অভিভাবক, কমিউনিটি, শাস্তি এসবের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়। নীতিমালা অনুসারে, কাউকে উদ্দেশ্য করে এমন কিছু বলা বা লেখা যা খারাপ কোন কিছুর প্রতি ইঙ্গিত বহন করে, উপহাস করা, খারাপ নামে সম্বোধন করা বা ডাকা, অশালীন শব্দ ব্যবহার করা, গালিগালাজ করা, হুমকি দেওয়া ইত্যাদিকে মৌখিক র‍্যাগিং বলা হয়েছে।

কাউকে কোন কিছু দিয়ে আঘাত করা, চড়-থাপ্পর মারা, লাথি মারা, ধাক্কা মারা, খোঁচা দেয়া, থুথু মারা, বেঁধে রাখা, কোন বিশেষ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বা বসিয়ে বা বিশেষ অবস্থায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া অথবা বাধ্য করা, কারো কোনো জিনিপত্র জোর করে নিয়ে যাওয়া বা ভেঙ্গে ফেলা, মুখ দিয়ে অশালীন বা অসৌজন্যমূলক অঙ্গভঙ্গি করাকে শারীরিক র‍্যাগিং বলা হয়েছে।

সামাজিক মর্যাদা, একক বা দলগত বন্ধুত্ব বা পারস্পরিক সম্পর্ক, ধর্মীয় পরিচিতি বা বংশগত অহংকারবোধ থেকে কোন শিক্ষার্থীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা বা তা করতে প্ররোচিত করা বা কারো সাথে বন্ধুত্ব করতে বারণ করা, কারো সম্পর্কে গুজব ছড়ানো, প্রকাশ্যে কাউকে অপমান করা, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা জাত তুল কোন কথা বলা ইত্যাদিকে সামাজিক র‍্যাগিং বলা হয়েছে।

এছাড়াও এই নীতিমালায় সাইবার র‍্যাগিং, সেক্সুয়াল র‍্যাগিং ও জাতিগত র‍্যাগিং সম্পর্কেও বলা আছে।

নীতিমালা থেকে আরও জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে, আবাসিক হল/মেসসমূহে কোন ধরনের র‍্যাগিংয়ের ঘটনা সংগঠিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা খতিয়ে দেখবে এবং বিষয়টি লিপিবদ্ধ করবে। এ ক্ষেত্রে ঘটনা সংগঠনের ধরণ, স্থান, বিবেচনায় নিয়ে ‘এন্টি র‍্যাগিং স্কোয়াড অব হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর’ এর মূল কমিটি সংশ্লিষ্ট উপকমিটিকে দায়িত্ব অর্পন করবে। কমিটি তা যথার্থ প্রক্রিয়ায় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করলে সে অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, র‍্যাগিং প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারকে আহ্বায়ক করে এন্টি র‍্যাগিং স্কোয়াডের মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। মূল কমিটিতে আরও থাকবেন আহ্বায়ক (ডিন কাউন্সিল), আহ্বায়ক (হলসুপার কাউন্সিল), প্রক্টর, পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ), সকল সহকারী প্রক্টর এবং সকল সহকারী পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ)। এছাড়াও অনুষদওয়ারী ও আবাসিক হলসহ ( হল ও মেস) আরও কয়েকটি উপকমিটি গঠন করা হবে।

এ বিষয়ে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যদি র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠে এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান আইন অনুযায়ী ও র‍্যাগিং এর ধরণ অনুযায়ী বিভিন্ন শাস্তিসহ তার ছাত্রত্ব বাতিল করা হতে পারে। এছাড়াও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. ইয়াছিন প্রধান বলেন, ক্যাম্পাসে র‍্যাগিং বন্ধে প্রক্টোরিয়াল বডি সবসময় তৎপর রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পাসে প্রচারণা করা হবে। র‍্যাগিং বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে সচেতনতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ যদি কারো দ্বারা র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়, তাহলে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করতে পারবে এবং যদি সে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সবোর্চ্চ শাস্তি বহিস্কার করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।