• সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১৩ ১৪৩০

  • || ১৫ শা'বান ১৪৪৫

সর্বশেষ:
জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার- প্রধানমন্ত্রী সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করছে সরকার: নৌপ্রতিমন্ত্রী শিক্ষা মানুষের সব সুযোগের দুয়ার উন্মোচন করে: গণপূর্তমন্ত্রী অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি রোধে সতর্ক থাকতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী রোজার আগেই দে‌শে ঢুকবে ভারতের পেঁয়াজ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সবুজের চাদরে ঢাকা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২৩  

ছায়া সুনিবিড় সবুজের মায়ায় জড়ানো উত্তরের উচ্চশিক্ষার বাতিঘর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। পাখির কিচিরমিচির শব্দ, প্রাণজুড়ানো দক্ষিণা বাতাস আর প্রকৃতির কোমল মায়ার চাদরে জড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ক্যাম্পাসের ভেতরে পথ চলতে চলতে মনে হয় এ যেন বৃক্ষের জাদুঘর। ৭৫ একরের ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে আড়াইশর বেশি প্রজাতির প্রায় ৩৬ হাজার গাছ।

ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি জারুলগাছ। মূল ফটক পেরিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে রাস্তার দুই ধারে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া। সবুজ পাতার কৃষ্ণচূড়ার ডালে যখন লাল ফুল ফোটে, দেখে মনে হয় যেন জাতীয় পতাকা সবুজের মাঝে লাল রং নিয়ে উড়ছে। সবুজ পাতার ভেতর থেকে রক্তরাঙা কৃষ্ণচূড়া সবাইকে ক্যাম্পাসে স্বাগত জানায়।

ক্যাম্পাসের প্রথম গেট দিয়ে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে দেবদারু সুশোভিত সড়ক। ক্যাম্পাসের সুন্দরতম বিজয় সড়ক, যা কৃষ্ণচূড়া ও দেবদারু সড়কে সংযোগ করে থাকে। বিকেলে বিজয় সড়ক যেন সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের ছবি তোলার হটস্পট হয়ে ওঠে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের তৃতীয় ও চতুর্থ গেট পেরিয়ে দেখা যাবে বকুল ও শিউলি ফুলের সমারোহ। প্রতিদিন সকালে ফুল কুড়াতে আসেন অনেকেই। সন্ধ্যা হলে শিউলি ফুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। আর গ্রীষ্মকালে সোনালু ফুলের ঝলকে মেতে ওঠে ক্যাম্পাস।

প্রতিটি একাডেমিক ভবন সবুজে ঘেরা। যেন ছায়াঘেরা এক সবুজ উদ্যান। চারদিকে সব বিচিত্র গাছের সমাহার। সবুজের ছায়ায় এক ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আরেকটি দেখা যায় না। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্যাম্পাসের অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা।

ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রশাসনিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া, লাইব্রেরি, মসজিদ, হল, ডরমিটরি, স্বাধীনতা স্মারক, শহীদ মিনার, খেলার মাঠসহ যে কোনো জায়গায় দাঁড়ালেই মনে হয় যেন মুহূর্তেই সবুজের নির্মল অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। ক্যাম্পাসে ফল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছের মধ্যে রয়েছে শাল, দেবদারু, পলাশ, কাউফল, আঁশফল, সফেদা, আলুবোখারা, আমলকী, বট, পাকুড়, হরীতকী, বহেড়া, অর্জুন, কাইজেলিয়া, রাবার, সোনালু, বিলাতি গাব, নিম, বুদ্ধ নারিকেল, কাঠবাদাম ইত্যাদি। ফুলগাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নীলমণি লতা, ঝুমকো লতা, লাল কাঞ্চন, শ্বেত কাঞ্চন, কাঠগোলাপ, চেরি, জবা, রজনীগন্ধা ও মাধবীলতা।

দুর্লভ গাছের মধ্যে রয়েছে গ্লিরিসিডিয়া, জয়তুন, পারুল, হৈমন্তী, জয়ত্রী, ঢাকি, জাম, তেলসুর, পুত্রঞ্জীব, কানাইডিঙা, হলদু, দইবোটা, পুমুর, মহুয়া, পানিয়াল, পেস্তাবাদাম, কাজুবাদাম, চিকরাশি ও নাগেশ্বর।

বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও নানা জটিলতায় স্থায়ী ক্যাম্পাস পেতে তিন বছর লেগে যায়। ৮ জানুয়ারি ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠাকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে অন্য প্রান্ত দেখা যেত। সময়ের পরিক্রমায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুধীজনের সহযোগিতায় ক্যাম্পাস গাছপালা দিয়ে সাজানোর ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছেন প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও সবুজ আবহাওয়া, তা একই সময়ে প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। এখন শুধু ছায়া সুনিবিড় ক্যাম্পাস নয়, বৃক্ষের বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ আমাদের ক্যাম্পাস।