• শনিবার   ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৯

  • || ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
তারা বুদ্ধিজীবী না, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীজীবী- প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার প্রশংসায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘূর্ণিঝড় ‘মানদৌস’ নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে: নৌপ্রতিমন্ত্রী শামসুল আলমের প্রতি ভারতীয় হাই কমিশনারের শ্রদ্ধা

তিস্তার বুকে জেগে উঠা রুপালি চর এখন সবুজে ঢাকা 

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২২  

তিস্তার বুকে জেগে উঠা রুপালি বালু চরে শীত মৌসুমে ঢাকা পড়েছে সবুজের চাদরে। সবকিছু ঠিক থাকলে নীলফামারীর ডিমলা আর জলঢাকা উপজেলায় জেগে ওঠা তিস্তা নদীর ২৩টি চরে উৎপাদন হবে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকার ফসল।বন্যার ধকল কাটিয়ে ফসলের মাঠে শত কৃষকের চলছে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার প্রাণান্তর চেষ্টা। তবে ব্যাংক থেকে সুদবিহীন শষ্য ঋণ না পাওয়ায় তাদের দ্বারস্থ হতে হয়েছে দাদন ব্যবসায়ীদের। আর এতে করে কৃষকের লাভের অংশ যায় দাদন ব্যবসায়ীদের পেটে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুমের প্রলয়ঙ্কারী তিস্তায় শীতের শুরু থেকেই নদীতে প্রবাহ নেই বললেই চলে। জেগে উঠেছে চর। দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত রুপালি বালু চরে সবুজের সমারোহ। চরগুলোতে ভুট্টা, সরিষা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, তরমুজসহ ১০ ধরনের ফসল চাষ করছে কৃষকেরা। সেই ফসলকে ঘিরে আগামীর স্বপ্ন বুনছেন নদী পাড়ের মানুষ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী, খালিশা চাপানী, টেপাখড়িবাড়ী, পূর্ব ছাতনাই, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও সউলমারী ইউনিয়নে তিস্তার ২৩টি চরে তিন হাজার ২৭৩ হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে এসব ফসল। ডিমলায় দুই হাজার ৯৪৫ হেক্টর ও জলঢাকায় ৩২৮ হেক্টর জমি চর বেষ্টিত।

গেল বন্যায় কাটা ধানসহ সহায় সম্বল হারানো মানুষগুলো এখন ঘুরে দাঁড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্ভবনার ফসল উৎপাদনে। তবে ডিজেল ও সারের দাম বেশি হওয়াসহ দাদন ব্যবসায়ীদের সুদ পরিশোধের পরে কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছে এসব কৃষক। এদিকে ঊর্বর চরে স্বাচ্ছন্দে বিভিন্ন ফসল ফলাতে সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি সুদবিহীন শষ্য ঋণের দাবি তাদের।

জলঢাকা শৌলমারী চরের শামসুল হক বলেন, গত আমন মৌসুমে হঠাৎ বন্যার কারণে ধান ঘরে তুলতে পারি নাই। যেগুলো পাকা ধান কাটার অপেক্ষায় আছিল তাও বানের পানিত তলে থাকি পচি নষ্ট হয়া গেইছে। এবার ৭৫ শতক জমিত ভুট্টা চাষ করছি। ভুট্টা লাগার পরে এখন সার আর তেলের দাম বারি গেইছে। কাটা মাড়াইর সময় যদি ভুট্টার দাম না বাড়ে তাহইলে এবারও হামরা মাঠে মরে যামো।

ঝুনাগাছ চাপানি চরের আনিছুর ইসলাম বলেন, তেল ও সারের দাম বাড়ি যেয়া বাবা মোর আবাদ করিবার টাকা শেষ হয়ে গেইছে। বাড়ির গোরত এক দাদন ব্যবসায়ীরঠে সুদের ওপর টাকা নিয়া আবাদ শুরু করছু। ফসল তোলার সময় যদি দাম ভাল পাও তাহইলে লাভের মুখ দেখিম। আর দাম না পাইলে তো গরু বাছুর ব্যাচে সুদের টাকা দিবার নাইগবে।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক বার্তা২৪.কম-কে বলেন, গত বর্ষায় তিস্তার উজানের ঢলে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার দুইটি বাঁধ ভেঙে আটশ ২৬ হেক্টর জমিতে পানি প্রবেশ করে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকার চাষিদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রণোদনার আওতায় আনা হচ্ছে তাদের।

তিনি জানান, কৃষকেরা যেভাবে ফসলের পরিচর্যা করছে তাতে এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকলে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ফসল উৎপাদন হবে।