• শনিবার   ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৯

  • || ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
তারা বুদ্ধিজীবী না, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীজীবী- প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার প্রশংসায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘূর্ণিঝড় ‘মানদৌস’ নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে: নৌপ্রতিমন্ত্রী শামসুল আলমের প্রতি ভারতীয় হাই কমিশনারের শ্রদ্ধা

শখের বশে শুরু, এখন খাদিজার বাগানে ২০ প্রজাতির ফলগাছ

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার নারী উদ্যোক্তা খাদিজা বেগম। শখের বশে শুরু করেছিলেন কফি ও ড্রাগন চাষ। সেই বাগানই এখন বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে। 

খাদিজা বেগম জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের সুনগর গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি ৫ বিঘা জমিতে ড্রাগন, কফিসহ নানা জাতের ফলগাছ লাগিয়েছেন। ২০১৪ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের সহযোগিতায় ব্যস্ত থাকার উপায় খুঁজতে থাকেন। পরিচিত ফসল চাষের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে নতুন নতুন ফলের চাষ করে এলাকায় আলোড়ন তোলেন। পথ দেখাচ্ছেন বেকার তরুণ-তরুণীদের। 

খাদিজা বেগমের বাগান দূর থেকে দেখলে মনে হয় সযত্নে ক্যাকটাস লাগিয়েছেন কেউ। একটু কাছে যেতেই চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। প্রতিটি গাছে ঝুলছে ফুল, ফল, ড্রাগন আর কফি।

খাদিজা বেগম বলেন, ২০১৪ সালে ২৯ মে আমার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর আমার মধ্যে একাকীত্ব ভর করে। তখন পতিত জমিগুলোতে শখের বশে কখনো দু-একটি লাউ-কুমড়ার চারাগাছ লাগাতাম। আমার দুই ছেলে। তারা ২০১৮ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের বাইরে চলে যায়। তারা শখ করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা প্রজাতির অ্যারাবিকা ও রোভাষ্ট জাতের কফিগাছ ও কিছু ড্রাগন গাছের চারা নিয়ে আসে। এখান থেকেই শুরু হয় ড্রাগন ও কফি চাষ। শখের বশে করা বাগানে এখন ২৬০টি ড্রাগন ও ২০৮০টি কফি গাছসহ ২০ প্রজাতির ফল গাছ আছে। 

খাদিজা বেগমের ছোট ছেলে শেফায়েত নাশরাত নয়ন বলেন, মায়ের একাতিত্বের কথা চিন্তা করে মূলত কিছু ফলগাছের চারা এনে দেই। পর্যায়ক্রমে পাঁচ বিঘা জমিতে সেসব চারা লাগানো হয়েছে। কিন্তু শখের কাজ যে আজ বাগানে রূপান্তরিত হবে ভাবতেই পারিনি। ড্রাগন ও কফি বাগানের সঙ্গে শরিফা, রামবুটান, অ্যাভোকাডো, আম ও কোকো গাছও আছে। বাগান থেকে প্রতি সপ্তাহে নূন্যতম ২০ কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি করা হচ্ছে। যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ৪০০ টাকা। বাগান থেকে প্রতিটি ড্রাগনের চারা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। কফিগাছেও প্রচুর ফল এসেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মীর তামিম বান্না বলেন, খাদিজা বেগমের বাগানটি আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করছি ও বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি ২০১৮ সালে স্বল্প পরিসরে ড্রাগন ও কফি চাষ শুরু করেন। বাগান শুরু করার পর তার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়। পরে তিনি বাণিজ্যিকভাবে বাগান করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন। তাই আমরা বসতবাড়ির আশপাশে সবাইকে স্বল্প পরিসরে বাগান করার উৎসাহ দিচ্ছি। এতে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আমাদের দেশের কৃষি বাণিজ্যিকভাবে সফল হবে।