• রোববার   ২৯ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৯

  • || ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশংসা পর্তুগালের মরণোত্তর ‘দ্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পেলেন দুই বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দেশে ভেনামি চিংড়ি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের শিল্পনগরী ও অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে দিনাজপুর: হুইপ ইকবালুর রহিম আরও সময় নিয়ে বৈঠকের প্রস্তুতি নিতে চায় দুই ঢাকা-দিল্লি

সৈয়দপুর রেল বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫০ কোচ 

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২২  

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে নতুন করে সংযুক্ত হচ্ছে আরও ৫০টি কোচ। ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রেনে নতুন কোচ সংযোজনকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা। নির্ধারিত সময়ের পরও অতিরিক্ত সময় দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ করছেন শ্রমিকরা। বাতিল করা হয়েছে রেলওয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি।

সৈয়দপুর কারখানার জিওএইচ, উৎপাদন মেশিন শপ, ক্যারেজ শপ, হুইল শপ, বগি শপ ও সিএইচআর শপ এ সকাল ৭টা থেকে শুরু করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরামহীন কাজ চলছে কারখানার ২৪টি বিভাগে। এরই মধ্যে ৫০টি কোচের মধ্যে ৩০টি প্রস্তুত শেষে পাকশি ও লালমনিরহাট রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ২০টি বগি হস্তান্তর করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন কারখানার শ্রমিকরা।

উৎপাদন মেশিন শপের শ্রমিক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘দিনে ১০ ঘণ্টা কাজের মধ্যে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মতো বিরতি ছাড়া সবাই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছি। সকাল ৭টায় কারখানায় প্রবেশ করে কাজ শেষ করে বের হতে হচ্ছে বিকেল ৫টার পর।’

তিনি বলেন, ‘সচরাচর সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ হতো এখানে। কিন্তু ঈদের কারণে আমাদের এক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় (ওভারটাইম) কাজ করতে হচ্ছে।’

একই বিভাগের শ্রমিক ইসকেন্দার আলী বলেন, ঈদের কারণে যাত্রীসেবায় অতিরিক্ত কোচ তৈরির জন্য আমাদের বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে। কারণ এখানে একটি বিভাগে ৩০০ শ্রমিকের প্রয়োজন হলেও রয়েছে মাত্র ৫০ জন শ্রমিক।

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে ১০০ মেশিন রয়েছে, যার প্রত্যেকটি মেশিনে অন্তত তিনজন করে শ্রমিক দরকার। তবে শ্রমিক সংখ্যা কম থাকায় আমাদের অতিরিক্ত এক ঘণ্টা সময় বেশি দিতে হচ্ছে।’

হুইল শপে কাজ করছিলেন শ্রমিক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আগে দৈনিক দুই থেকে তিনটি চাকার কাজ করলেও এখন ঈদ সামনে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পাঁচটি চাকার কাজ করতে হচ্ছে। আমাদের সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে শুধু ঈদে যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণের কথা ভেবে।’

ঈদের সময় যাত্রী চাপ কয়েকগুণ বেশি থাকায় তাদের কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত কোচগুলো নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান কারখানার জিওএইচ শপের ইনচার্জ সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আন্তনগরের বিভিন্ন বহরে ৫০টি নতুন কোচ যুক্ত হচ্ছে। শপে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা কোচ নতুন করে মেরামত করা হচ্ছে। এখানে একটি ৩৬ বছরেরও বেশি বয়সের কোচের কাজ করা হচ্ছে। কোচটির বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। যা ভালো আছে সেগুলো ঠিক রেখে নতুন করে সেটআপ দিয়ে এটিকে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হবে।’

কারখানার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনের মাত্র ২৫ শতাংশ জনবল নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে কারখানায়। দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় তিন হাজার ৮৪১ জন শ্রমিকের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র এক হাজার ৩৩৭ জন।

জানতে চাইলে জনবল সংকটের কথা স্বীকার করেন উৎপাদন মেশিন শপের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, এখানকার প্রধান সমস্যাই জনবল সংকট। জনবল সংকট না থাকলে আরও বেশি বগি মেরামত করা সম্ভব হতো।

সৈয়দপুর কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক সাদেকুর রহমান বলেন, ৫০টি কোচের মধ্যে রেলের পাকশি ও লালমনিরহাট বিভাগে ৩০টি কোচ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ২০টির কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই ৫০টি কোচ রেলের পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনের র্যাকে যুক্ত হয়ে যাত্রী পরিবহন করবে। প্রতিটি বগিতে ১০০ জন করে যাত্রী পরিবহন করা যাবে।