• বৃহস্পতিবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
ক্ষমতায়ন ছাড়া সমাজে নারীর অবস্থান উন্নত হবে না: প্রধানমন্ত্রী অপপ্রচারকারীদের কনস্যুলার সেবা দেবে না কানাডার বাংলাদেশ মিশন ‘দেশের ফুটবল দলকে বিশ্বকাপের উপযোগী করতে কাজ চলছে’ ট্রেনের ধাক্কায় ইউএনও অফিসের নৈশপ্রহরীর মৃত্যু ‘পলিথিন প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’

সৈয়দপুরে খামারের গরু কিনতে আগ্রহী ক্রেতারা

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২২  

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কোরবানির গরুর হাটের চেয়ে খামারের গরু কিনতে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। ফলে উপজেলার কোন হাটই এখনো জমে উঠেনি। ক্রেতারা ঝঁকি ঝামেলা এড়াতে খামারের গরু কিনতে ঝুঁকছেন বেশী। উপজেলার প্রতিটি খামারে কোরবানির গরু দরদামে ও ওজনে বিক্রি হচ্ছে। ফলে খামারে জমে উঠেছে কেনাবেচা। 

গরু কিনতে আসা কাজীপাড়ার মোশারফ জানান, গরু রাখা একটা বিশাল ঝামেলা, তাই এখানে সকল ধরনের সুবিধা পাওয়ায় হাটে না গিয়ে ফার্মে গরু  কিনবো বলে মনন্ত করছি। এ উপজেলায় ছোট্রবড় মিলে প্রায় ২০টি গরুর খামার রয়েছে। খামারিরা গরু রাখা ও খাওয়াসহ বিশেষ সুবিধা দেওয়ায় ক্রেতারা এখন হাট না গিয়ে খামার মুখি হচ্ছে।  

 শহরের হাতিখানা বানিয়াপাড়া এলাকার শাহ আলম জানান, শহরের মেসার্স ইউসুফ হৃষ্টপুষ্ট খামার ও ডেইরি ফার্ম থেকে ৬৫ হাজার টাকায় কোরবানির গরু কিনেছি। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত খামারে রাখতে পারবো। এ ক্ষেত্রে গরুর কোন ক্ষতি হলে যাবতীয় ক্ষতিপুরণ খামার কর্তৃপক্ষ এমনকি  সমুদয় টাকা অথবা অন্য গরু কেনার সুযোগও রয়েছে। শহরের বাঁশবাড়ি এলাকার শাহনওয়াজ জানান, যেহেতু খামারটি বাড়ির পাশে তাই গরু কেনার পর কোরবানি ও বর্জ্য অপসারণ সব কাজই করে দেবেন খামার কর্তৃপক্ষ। এছাড়া গরুর সুস্থতার জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগ সনদপত্রও দিচ্ছেন। খামারে প্রায় ৩০০ গরুকে প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে। কৃত্রিম কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। ফলে এই খামারের গরু প্রতিবছরই কোরবানি দাতাদের কাছে চাহিদার শীর্ষে থাকে। খামারের গরু দেখাশুনার জন্য ৮ জন শ্রমিক সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।  

শ্রমিকরা জানান, গরুর খাবার হিসেবে চোকর, জাউ ভাত, ঘাস, মসুর ডাল, খেসারি ডাল, বুটের খোসা, আলু সিদ্ধ দেওয়া হয়। ফলে হৃষ্টপুষ্ট থাকছে গরুগুলো। খামারের মালিক জামিল আশরাফ মিন্টু জানান, মূলত সাড়ে ৬০০ টাকা কেজি হিসাবে দাম ধরে গরুর ওজনে মূল্য ধরা হয়। এছাড়া বিয়ে, উৎসবের জন্য খামার থেকে সরবরাহ করা হয়।  তিনি বলেন, খামারে ৪০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে। ২০১২ সালে খামারটি গড়ে তোলেন তিনি। 

 
সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, মেসার্স ইউসুফ হৃষ্টপুষ্ট ও ডেইরি ফার্মটি পরিবেশ বান্ধব। এটি নীলফামারী জেলার সবচেয়ে বড় খামার ও ডেইরি ফার্ম। প্রাকৃতিক পরিবেশে গরু লালন-পালনের বিষয়টি অনেকের কাছে অনুকরণীয় হতে পারে।  

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম হুসাইন বলেন, চাকরি নামে সোনার হরিণের পেছনে না ছুটে শিক্ষিত বেকারদের এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। তিনি খামারটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
এছাড়া উপজেলার বেশকিছু খামার পুরো গরু ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। যাদের হাটবাজার অভ্যাস নেই কিংবা প্রায় ঠকে থাকেন তারা মূলত ওজন দরে গরু কিনে খামারেই রাখছেন বলে জানা গেছে।