• বৃহস্পতিবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৯

  • || ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

তিস্তার সেচে সবুজে ভরে উঠেছে উত্তরের তিন জেলার আমন ক্ষেত

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২২  

তিস্তার সেচে সবুজে ভরে উঠেছে উত্তরের তিন জেলার আমন ক্ষেত           
রংপুরে তীব্র খরা হলেও তিস্তা সেচ খালের পানিতে আমন ক্ষেত সবুজে ভরে উঠেছে রংপুর, নীলফামারী ও দিনাজপুরের ৩৫টি উপজেলার। রংপুর সহ উত্তরের ১৬ জেলার চারটি কৃষি জোনে প্রায় ২৫ লাখ হেক্টর জমিতে আমন চাষ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে কৃষিবিভাগ। এখন মাঠের পর মাঠ সবুজে ছেয়ে গেছে সবুজের সমারোহ। অসময়ের খরায় ঘাম ঝরানো কৃষকেরা এখন ভালো ফলনের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

চলতি মৌসুমে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তা সেচ খালের মাধ্যমে ভূ-উপরিভাগের পানিতে হচ্ছে ফসলের চাষ আবাদ। এই সেচ প্রকল্প থেকে সেচ সুবিধা ভোগ করছে ১৫ লাখের বেশি কৃষক। চলতি মৌসুমে কমপক্ষে দুইশ কোটি টাকার অতিরিক্ত ধান উৎপাদনের প্রত্যাশা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের। সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে হবে বড় অংকের অর্থের জ্বালানি সাশ্রয়। প্রকল্পের পানি ব্যবহারের ফলে বছরে একর-প্রতি কৃষকের সার্ভিস চার্জ মাত্র ৪শ ৮০ টাকা। অথচ পাম্পে সেচ দিলে খরচ হতো ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। খরাতেও সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পেয়ে খুশি চাষিরা।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা এলাকার কৃষক আজহার আলী বলেন, 'হামার এত্তি যখন পানির দরকার তখন পানি থাকে না। চাষাবাদ করতে খুব কষ্ট হয়। ওই তকনে হামরা তিস্তা সেচ ক্যানেলের পানি দিয়্যা আবাদ করি। এবার বৃষ্টি না হওয়াতে চিন্তাতে আছনো। তিস্তা সেচ খালের পানি ঠিক মতো পাওয়াতে তেমন সমস্যা হয় নাই। আশা করা যায় ভালো ফলন হইবে।' 

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল চন্দ্র সরকার বলছেন, খরা মোকাবেলায় শুকনো মৌসুমে বোরো আর বর্ষায় আমন আবাদে দেওয়া হচ্ছে সম্পূরক সেচ। এতে দুই লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদন হবে বলেও আশা করছি। তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় চলতি বছর নীলফামারী-রংপুর ও দিনাজপুরে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম কামরুল হাসান বলেছেন, 'গত দুই দিনে দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে রংপুরে। শনিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রোববার (২৮ আগস্ট) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুরে সর্বোচ্চ ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দিনাজপুরে ৬৩, সৈয়দপুরে ৪৩, রাজারহাটে ৫৮, ডিমলায় ৩৭, তেঁতুলিয়ায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। রংপুরে গত বছর মোট বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল ১ হাজার ৮৩০ মিলিমিটার। এ বছর বর্ষা মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আশানুরূপ বৃষ্টিপাত হয়নি। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন উত্তরের কৃষির জন্য অশনি সংকেত। স্বাভাবিক বৃষ্টি না হলে আমন চাষে তিন ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা। প্রথমত সেচে বাড়তি খরচ, দ্বিতীয়ত ক্ষেতে আগাছা, রোগ বালাই ও পোকার আক্রমণ বেড়ে যায় এবং তৃতীয়ত উৎপাদিত ধানে ভালো মানের চাল পাওয়া যাবে না।' 

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপ-পরিচালক মাহাবুবুর রহমান বলেছেন, 'রংপুর সহ উত্তরের ১৬ জেলার চারটি কৃষি জোনে প্রায় ২৫ লাখ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরমধ্যে শুধু রংপুর অঞ্চলে (নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর। মধ্য আগস্ট পর্যন্ত আবাদের আওতায় ছিলো ৫ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর। তিস্তা সেচ খালের পানি সুবিধা অব্যাহত থাকাতে কৃষকেরা অনেকটা চিন্তা মুক্ত হয়েই চাষ আবাদ করছেন। অপর দিকে আমন ক্ষেতে পোকা মাকড়ের কবল থেকে ধান ক্ষেত রক্ষার জন্য কৃষকদের প্রতিটি ক্ষেতে বাঁশের কঞ্চি পুতে পাখি বসার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।'