• মঙ্গলবার   ০৪ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৮ ১৪২৯

  • || ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
মুজিববর্ষে সরকারি ঘর পেয়েছে প্রায় ২ লাখ পরিবার: প্রধানমন্ত্রী আগামী প্রজন্মের জন্য পরিকল্পিত নগরায়ণের বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ অঞ্চলের ৫০ লাখ ভিডিও সরিয়েছে টিকটক: টেলিযোগাযোগমন্ত্রী করতোয়ায় দেশের বৃহত্তম ওয়াই ব্রিজ হবে: রেলমন্ত্রী সুজন বিএনপি সুযোগ পেলে আবার নির্যাতন চালাবে: তোফায়েল আহমেদ

অধিনায়ককে দেখে কাঁদলেন শত শত বীর মুক্তিযোদ্ধা

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২  

অধিনায়ককে দেখে কাঁদলেন শত শত বীর মুক্তিযোদ্ধা                   
‘এটাই মনে হয় শেষ। আর হয়তো দুচোখ মেলে একসঙ্গে এত বীর মুুক্তিযোদ্ধা দেখতে পাবো না। জীবনের শেষ বয়সে এসে আবার ইকবাল ভাইকে দেখবো ভাবিনি। আল্লাহ বাঁচায় না বাঁচায় জানি না তবে আর কোনো চাওয়া নেই।’

অশ্রুভেজা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার। তিনি জলঢাকা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সংসদের সদস্য।

তার এই আবেগ নীলফামারী জেলার সব সহযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ৬ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন ইকবাল রশিদকে ঘিরে। নীলফামারী জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এ মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

একসঙ্গে জেলার সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে একত্রিত করার ব্যবস্থা করেন জেলা প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন। এ সময় অনেকদিন পর প্রিয় অধিনায়ককে কাছে পেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন অনেকে। কেউ কেউ প্রিয় অধিনায়ককে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছেন। কেউবা হারিয়েছেন কথা বলার ভাষা।জাগো নিউজকে অনেকেই জানিয়েছেন তাদের আবেগের কথা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভাবিনি এতদিন পর ইকবাল ভাইকে দেখবো। তিনি আমাদের পরম আনন্দের সঙ্গে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একসঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধেও গেছেন তিনি। আজ আমরা অনেক খুশি।’

মুক্তিযোদ্ধা শফিক উদ্দিন বলেন, ‘আসলে অনুভূতির কথা কী বলবো! বয়সতো শেষ। আর কী বাঁচমু (বাঁচবো)? এই বয়সে এই আনন্দ কই রাখি। ইকবাল ভাই অনেক ভালো লোক ছিলেন। উনাকে দেখার জন্যই আসলাম অসুস্থ শরীর নিয়ে।’

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘একসঙ্গে সব সহযোদ্ধা। আল্লাহ আমাদের সেরা উপহার দিছে আজ। আর ইকবাল ভাইতো আমাদের অনুপ্রেরণা। যার নেতৃত্বে আমরা নীলফামারী স্বাধীন করেছি।’

জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন বলেন, দিন দিন নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। সে কারণে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন।

মুক্তিযুদ্ধকালীন ৬ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ইকবাল রশিদ বলেন, ‘আসলে এখানে আমার কথা বলার ভাষা নেই। মানুষ মানুষকে এত ভালোবাসতে পারে এটা আমার জানা ছিল। এখানে এসে আমার যুদ্ধের স্মৃতিগুলো ভাসছে। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’

অনুষ্ঠানে জেলার ছয় উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ প্রায় তিন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকালীন গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
#জাগো নিউজ।