• বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
ক্ষমতায়ন ছাড়া সমাজে নারীর অবস্থান উন্নত হবে না: প্রধানমন্ত্রী অপপ্রচারকারীদের কনস্যুলার সেবা দেবে না কানাডার বাংলাদেশ মিশন ‘দেশের ফুটবল দলকে বিশ্বকাপের উপযোগী করতে কাজ চলছে’ ট্রেনের ধাক্কায় ইউএনও অফিসের নৈশপ্রহরীর মৃত্যু ‘পলিথিন প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’

কিশোরগঞ্জে আগাম আলু: চাষিদের মাঝে আনন্দের বন্যা

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০২২  

কিশোরগঞ্জে আগাম আলু: চাষিদের মাঝে আনন্দের বন্যা                       
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা আগাম আলু চাষের জন্য বিখ্যাত। প্রতি বছরের মতো এবারো সময়ের আগেই আগাম আলু উঠতে শুরু করেছে এ উপজেলায়। বাজারে চাহিদা এবং দাম বেশি থাকায় আগে থেকে উঁচু সমতলভূমির মাঠে আগাম আলু তোলার উৎসবে মেতে উঠেছেন চাষিরা। এ যেন কৃষকের মাঠ ভরা স্বপ্ন।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। ভাগ্য পরিবর্তনের সোনার মোহর খ্যাত নতুন আলুর ফলন ও বাজার দর বেশি পাওয়ায় চাষিদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। এ বছর জেলায় চার কোটি টাকার আগাম আলু উৎপাদনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলার কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন আগাম আলু তুলতে। জেলায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ উপজেলাতেই হয়েছে চার হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। দেশে আগাম আলু চাষের মডেল হিসেবে পরিচিত উত্তরের এ উপজেলাটির অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে আলু উৎপাদন করে নিজেদের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়েছেন এখানকার কৃষকরা। দেশে আগাম জাতের আলু এ উপজেলাতেই প্রথম উৎপাদন শুরু করেন কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠে কেউ মাটি খুঁড়ে আলু তুলছেন, কেউ কুড়াচ্ছেন, কেউ ঠেসে ঠেসে বস্তা ভরছেন। কোথাও আবার ডিজিটাল মিটারে চলছে ওজন পরিমাপের কাজ। ক্ষেতের মাঝে ভর্তি হচ্ছে ভ্যান, ট্রলি-ট্রাক। ক্ষেতের মধ্যে আলু তোলার এমন দৃশ্য উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে।

কিশোরগঞ্জের কৃষক শামীম বলেন, বরাবরের মতো চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর রোপণকৃত চার বিঘা জমি থেকে ৬০ থেকে ৬৫ দিনে ফলন যোগ্য আগাম আলু উত্তোলন করছি। জমিতে নারী-পুরুষ মিলে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। চার বিঘা জমিতে ৩৬ থেকে ৪০ বস্তা আলু হবে। আগাম হিসেবে ফলন কিছুটা কম হলেও বাড়তি খরচ ছাড়াই ক্ষেত থেকেই আলু ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলাম।

কৃষক শাকের হোসেন বলেন, আগাম আলু চাষ করে ভালো লাভবান হই। এ বছরে বেশি দামের আশায় আগাম আমন ধান কাটা মাড়াই করে সেই জমিতে আগাম আলুর বীজ রোপণ করেছি। এবার সাড়ে ১০ বিঘা জমিতে এ আলু চাষ করেছি। ৯০ থেকে ১০০ বস্তা আলুর আশা করা হচ্ছে।

আরেক কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, গত বারের তুলনায় এ বছর ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি আলু ক্ষেত থেকেই বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়।

পুঠিমারী গ্রামের কৃষক মিঠু বলেন, এখানকার মাটি বেলে দোআঁশ ও উঁচু। এখানকার কৃষকরাই দেশে প্রথম আগাম আলু চাষ শুরু করেন। মাত্র ৬০ দিনে এ আলু ঘরে তোলা যায়। দামও ভালো পাওয়া যায়। এসব জমিতে এখন ভুট্টা আবাদ করবো। ফলে একই জমিতে বছরে চারটি ফসল করা সম্ভব হয়।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার আলুর চাহিদা ভালো থাকায় এরই মধ্যে রাজধানী থেকে ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করেছেন। স্থানীয় আড়ত মালিক শফিকুল বলেন, ২৫ নভেম্বর থেকে মূল মৌসুম শুরু হবে। এখন প্রতিদিন দুই থেকে তিন ট্রাক আলু যাচ্ছে কারওয়ান বাজারে। ২৫ নভেম্বরের পর থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ ট্রাক আলু রাজধানী ছাড়াও সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, কৃষকদের আলু বিপণনের ক্ষেত্রে বাজারগুলোতে যোগাযোগ স্থাপন করে দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন জায়গার ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করেছেন। কৃষকরা যাতে লাভবান হতে পারেন সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, কিশোরগঞ্জের কৃষকরা আলু উৎপাদনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে অনেক বড় অবদান রাখছেন। অল্প সময়ে ভালো দাম পাওয়া দেশের আলুর চাহিদা পূরণে যেমন ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজেরাও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছেন।