• বুধবার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৮ ১৪২৯

  • || ০৮ রজব ১৪৪৪

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দেওয়া জারিফ পেল জিপিএ-৫

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২২  

নীলফামারী সদর উপজেলায় বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষা দিতে যাওয়া আব্দুল্লাহ মোক্তাদির জারিফ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সোমবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রাতে এ তথ্য জানা যায়।

জারিফ সদর উপজেলা গোড়গ্রাম ইউনিয়নের মাঝ পাড়া গ্রামের মৃত. মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে। জেলা শহরের নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। 

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে জারিফের বাবা মাহাতাব উদ্দিন কিডনিজনিত রোগে মারা যান। এ সময় তার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলছিল। ওই দিন সকালে তার বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল। এদিকে বাবা মারা যাওয়ার পরও তার মাথায় পরীক্ষার বিষয়টি ছিল। যখন স্বজনরা বাবার মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন শোকে কাতর হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয় আব্দুল মোক্তাদির জারিফ। তবে বাবা মারা গেছেন এটি বুঝতে দেয়নি সহপাঠী বা শিক্ষকদের। পরীক্ষা শেষে এসে বাবার মরদেহ দাফন করে জারিফ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে নীলফামারীর জেলা প্রশাসকের নজরে আসে।

এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে খবরটি শুনে সদর উপজেলার গোড়গ্রাম মাঠপাড়া মাদরাসা এলাকার জারিফের নিজ বাসায় ছুটে যান জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন। এ সময় ভবিষ্যতে যেকোনো সহযোগিতার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

জারিফের মা জোলেখা খাতুন বলেন, আমার বুকের ধন গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে শুনে যেমন খুশি, তেমনি জীবন সঙ্গীকে হারিয়ে দুঃখ, কষ্টে আছি। একদিকে দুঃখ থাকলেও অন্যদিকে খুশির খবর পেয়েছি। তার বাবার লাশ রেখে সে পরীক্ষা দিয়েও ভালো ফলাফল করেছে। আজ তার বাবা বেঁচে থাকলে অনেক আনন্দিত হতেন। আল্লাহ যেন আমার জারিফকে বড় করে দেন। সবাই দোয়া করবেন।

জারিফের বড় ভাই জামিল হোসেন বলেন, ওর রেজাল্টে আনন্দিত, তবে আমার বাবা থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতো। তার জন্য সৈয়দপুর টেকনিক্যাল কলেজসহ দেশের ভালো মানের প্রতিষ্ঠানে চয়েস দেব। ভালো প্রতিষ্ঠানে চয়েস আসলে সেখানে ভর্তি করাব।

নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানী বলেন, জারিফের এমন রেজাল্টে আমরা আনন্দিত৷ বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিয়েও সে এমন রেজাল্ট করেছে এতে আমরা গর্বিত। তাছাড়াও সে এমনিতেই অনেক মেধাবী ছাত্র।

জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন বলেন, আমি অনেক আনন্দিত, আসলে জারিফ একজন মেধাবী ছাত্র। সে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে পারবে। ভবিষ্যতে তার যে কোনো সহযোগিতায় আমি থাকব ইনশাআল্লাহ।