• বৃহস্পতিবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৬ ১৪২৯

  • || ১৬ রজব ১৪৪৪

সর্বশেষ:
এইচএসসিতে: পাসের হার ৮৫.৯৫, জিপিএ-ফাইভ ১৭৬২৮২ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী চীন: রাষ্ট্রদূত দল ও দেশের জন্য নিবেদিত ছিলেন মোছলেম উদ্দিন: প্রধানমন্ত্রী নীলফামারীতে সেচের আওতায় আসছে ১ লাখ হেক্টর জমি ৮ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

ডিমলা উপজেলাকে শতভাগ তামাক চাষ মুক্ত ঘোষনা

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২ জানুয়ারি ২০২৩  

ডিমলা উপজেলাকে শতভাগ তামাক চাষ মুক্ত ঘোষনা                         
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলাকে ‘তামাক চাষ মুক্ত’ ঘোষণার করলেন উপজেলা প্রশাসন। সোমবার(২ জানুয়ারী) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মাঠে সুধী সমাবেশের মধ্য দিয়ে তামাক চাষ মুক্ত ঘোষনা করেন প্রধান অতিথি নীলফামারী-১(ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের যৌথ আয়োজনে সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা বেলায়েত হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিমলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা তবিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী, ডিমলা থানার ওসি লাইছুর রহমান প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি বলেন, তিস্তা নদীবেষ্টিত হওয়ায় বেলেমাটিতে অন্য কোনো ফসল হয় না। সে কারণে তামাক বেশি করেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। সরকার এখনও ধুমপান বন্ধ ঘোষণা করেনি। সে কারণে তামাকের চাষও রয়েছে এ অঞ্চলে। তামাক চাষ বন্ধের ব্যাপারে আমি জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়েছিলাম। তামাকের তি নিয়ে কথা বলেছি। আমি আমার নিজ এলাকায় তামাক চাষ বন্ধের মাধ্যমে ডিমলা উপজেলাকে দেশ ও বিশ্বের কাছে রোল মডেল গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছি। সরকারিভাবে তামাক চাষিদের বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে এ অঞ্চলকে তিকর তামাক চাষ শূন্যের কোটায় নিয়ে আসবো।

কৃষকদের ভুট্টা আবাদের জন্য পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা চর অঞ্চলে ভুট্টা আবাদ বেশি হয়। তামাকের পরিবর্তে ভুট্টা আবাদ করলে বিঘাপ্রতি ৪০ হাজার টাকা পাবেন কৃষকরা। কৃষকেরা তামাক চাষে শারীরিক ও মানসিকভাবে যেভাবে তিগ্রস্ত হন তেমনি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে না। ভুট্টা চাষে তারা ব্যপক লাভবান হতে পারবে। দেশে এখন গমের সংকট চলছে। ভুট্টা দিয়েও আটা করা যায়। তাই কৃষক ভাইদের ভুট্টা চাষের আহবান জানাই।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলার ২৫৮ জন কৃষক দীর্ঘদিন ধরে তামাক চাষ করে আসছিল। তাদের  স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক তি তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করতে সচেতন করে তোলা, বিকল্প ফসল চাষে আগ্রহ তৈরি করা, প্রণোদনা প্রদান, সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার মাধ্যমে  উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে পুর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়বাড়ি, নাউতারা, খালিশা চাপানি ও টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নকে তামাক চাষ মুক্ত ঘোষনা করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী বলেন, কৃষক আগাম ভুট্টা চাষ করতে পারলে এক জমিতে তাঁরা তিনটি ফসল ফলাতে পারবেন। এজন্য সরকারিভাবে তাদেরকে ভুট্টা বীজ প্রদান সহ বেলেমাটিতে যেসকল ফসল আবাদ হয় তার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে তাদের। যাতে তাঁরা তামাক আবাদ পরিহার করতে পারে।

তামাক চাষ মুক্ত উপজেলা ঘোষণার উদ্যোক্তা ডিমলার ইউএনও বেলায়েত হোসেন জানান, বাংলাদেশের মধ্যে ডিমলা হবে প্রথম কোনো উপজেলা, যেখানে কোনো তামাক চাষ হয় না। কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের বুঝানো হয়। আজ সুধী সমাবেশের মাধ্যমে উপজেলাকে তামাক চাষ মুক্ত ঘোষনা করা হয়। কোনো কৃষক যদি তামাক চাষ করে দ্রুত প্রশাসনকে জানাবেন। তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।