• বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪৩১

  • || ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার পুনঃখনন শুরু

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩  

সকল জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার পুনঃখননের কাজ শুরু করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার(২৩ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে খনন কাজের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন করেন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি পুরোদমে চালু এবং ২ হাজার ২৩২ হেক্টর জমিতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সেচের পানি সরবরাহ করার নিমিত্তে তিস্তা সেচ প্রকল্পের সাথে সমন্বিত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের ৪ মে একনেক সভায় ১ হাজার ৪৫২ দশমিক ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকার পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন দেন। উক্ত প্রকল্পের আওতায় বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের ৬৬৭ একর জলাধার ৫টি প্যাকেজে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্তি করা হবে। 

সংশ্লিষ্টরা আরো জানায়, প্রথম ধাপে ৬৬৭ একর জলাধার পুনঃখনন হলে জলাধারের পানি ব্যবহার করে ৫ হাজার ৫০০ একর জমিতে আমন ও বোরো মৌসুমে কৃষকরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে সেচের পানির সুবিধা পাবে। এরফলে প্রতিবছর বুড়িতিস্তা সেচের মাধ্যমে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিকটন ফসল উৎপাদিত হবে। যা বাজার মুল্যে প্রায় ৭২ কোটি টাকা। এতে কৃষকরা ভূ-পরিস্থ উর্বর পানি, গের্ভিটি ও ইরিগ্রেশন প্রদ্বতিতে ব্যবহার হবে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন বাবদ ১২ কোটি টাকা, জ্বালানি বাবদ ২২০ কোটি টাকা এবং সার বাবদ ১৩০ কোটি টাকা সহ প্রতি বছর প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল চন্দ্র সরকার, ডিমলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম, জলঢাকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর, ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান প্রধান, ডিমলা থানার ওসি লাইছুর রহমান, জলঢাকা থানার ওসি ফিরোজ কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 
উল্লেখ যে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্পটি ১৯৬৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত চলমান ছিল। এরপর এটি সংস্কারের অভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর এরভূমিতে স্থানীয় বসবাসকারীরা একপর্যায় বাপ দাদার সম্পত্তি দাবি করে কৃষকরা ফসল উৎপাদন করে আসছিল।

বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্পটি পুনরায় চালু করন ও খননের জন্য ২০২২ সালের ১৭ ডিসেম্বর সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী বাধা দেয়। ঘটনার ৪ দিন পর ২১ ডিসেম্বর রাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জলঢাকা ডিভিশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী একরামুল হক বাদী হয়ে ৭৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৬০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। এ ঘটনার বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, টেলিভিশন ও অনলাইনে তুলে ধরা হয়। সংবাদগুলির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এবং স্থানীয় প্রশাসন উক্ত এলাকায় কৃষকদের সাথে কয়েকদফা বৈঠকের পর ঘটনাটি মিমাংসার করতে সক্ষম হয়।