• বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১১ ১৪৩১

  • || ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫

সর্বশেষ:
যুদ্ধের অর্থ জলবায়ু পরিবর্তনে ব্যয় হলে বিশ্ব রক্ষা পেত- প্রধানমন্ত্রী দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড মেডিকেল কলেজের ক্লাস অনলাইনে নেয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘গণতান্ত্রিক রীতিনীতি না মানলে জনগণই বিএনপিকে প্রতিহত করবে’ লালমনিরহাটে হত্যা মামলায় বিএনপির দুই নেতা কারাগারে

নীলফামারীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে ঘরে ফিরেছেন রাবেয়ার স্বামী

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৫ মার্চ ২০২৩  

বিয়ের পর থেকে অভাব অনটন লেগেই থাকত নীলফামারীর পলাশবাড়ীর বালাপাড়া গ্রামের রাবেয়া বেগমের সংসারে। সংসারের অভাব-অনটন ও ধার-দেনার চাপে এলাকা ছেড়ে চলে যান রাবেয়ার স্বামী। এদিকে ছেলেও নেয়নি তার ভরণপোষণের দ্বায়িত্ব। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না তার। পরে ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে একটি ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে নাতনিকে নিয়ে আশ্রয় নেন রাবেয়া। 

কিন্তু আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে রাবেয়ার। নীলফামারীর পলাশবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পে মুজিববর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের একটি সরকারি ঘর পেয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে ঘরে ফিরেছেন তার স্বামী। আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক পাশে একটি মুদি দোকান খুলে নাম দিয়েছেন ‘রাবেয়া স্টোর’। সেই দোকান ও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন রাবেয়া বেগম।

রাবেয়া বেগমের মতো আপন ঠিকানা পেয়েছেন নীলফামারীর পলাশবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৭টি পরিবার। তাদের মধ্যে চারজন প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক ও ছিন্নমূল মানুষও পেয়েছেন জমিসহ ঘর। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের এসব ঘর পেয়ে বদলে গেছে প্রান্তিক এ জনগোষ্ঠীর জীবনমান।

সদর উপজেলার দুবাছড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঠাঁই হয়েছে আরও ৭১টি পরিবারের। একসময় ছিন্নমূল, ভূমিহীন, গৃহহীন এই মানুষগুলোর দিন কাটতো অনাহারে-অর্ধাহারে। তবে একটি নিরাপদ ঠিকানার চিন্তা দূর হওয়ায় বর্তমানে নিজেদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করছেন তারা। কেউ অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ, কেউ সবজি চাষ, আবার খামার করেও স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেকে।

রাবেয়া বেগম বলেন, আগে আমি পলাশবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ওখানে ছিলাম। আমার স্বামী ছিল না, একা থাকতাম। আমার ছেলেও দেখতো না, মেয়ে সংসার চালাইতো আর মেয়ের বাচ্চাটাকে নিয়ে আমি থাকতাম মানুষের জায়গায়। এখন আমাকে সরকার ঘর দেওয়ার পর আমার স্বামীও ফিরে আসছে। চলি ফিরি খাচ্ছি একটা দোকান দিয়ে। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। 

নীলফামারী সদরের তরনীবাড়ী গ্রামের ময়না বেগমের রক্তসঞ্চালন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেটে ফেলতে হয় দুই পা। পরে স্বামী অন্যত্র বিয়ে করলে দুই মেয়েকে নিয়ে আশ্রয় নেন বাবার বাড়ির পরিত্যক্ত ঘরে। অতিকষ্টে মেয়েদের বিয়ে দিলেও মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না তার। সেই ময়না বেগম এখন পলাশবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা।

তিনি বলেন, যখন বিয়ে হলো তখন আমি স্বামীর জায়গা জমি কিচ্ছু নাই। মানুষের জায়গায় থাকলাম। তারপর ঢাকায় চলে গেলাম তারপর ওখানে কাজ কাম করলাম। ঢাকায় যাওয়ার এক বছর পর আমার স্বামী অন্য জায়গায় বিয়ে করল। পরে দুইটা মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে চলতেছিলাম। আমার রক্ত বন্ধ হয়ে গেছিলো, তাই পাটা কাইটা ফেলতে হয়। তখন ডাক্তার পা কাইটা দেয়। পা কাটার পর বাবার বাড়িতে রেখে গেল স্বামী। পরে জানতে পারলাম সরকারি ঘর দিচ্ছে। তখন আমিও একটা ঘরের আবেদন করি। আবেদনের পর আমাকে ঘর দিলে এখানে আসি। এখানে একাই থাকি। ভালোই লাগতেছে। নিশ্চিন্তায় থাকতেছি সুখে শান্তিতে ঘুমাইতেছি। শান্তিতে আছি এখন।

নীলফামারীর নটখানা এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে অন্যের জমিতে একটি চালা ঘরে থাকতেন প্রতিবন্ধী ইকবাল হোসেন। নানা কষ্টে জর্জরিত ইকবালের ঠিকানা এখন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর।

ইকবাল বলেন, আমি প্রতিবন্ধী। দুই পা চলে না। আগে মানুষের জায়গায় ছিলাম। একটু ঝগড়া, কথাকাটাকাটি হলে বের করে দিত। এখন সরকারের বাড়ি পাইছি। ভালো আছি। ঝগড়াঝাঁটি নাই। কেউ বের করে দেয় না। সারাদিন পর বাড়ি ফিরে রাতে শান্তিতে বউ-বাচ্চা নিয়ে ঘুমাই।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন নাহার বলেন, মুজিব শতবর্ষে ভূমিহীন অসহায় মানুষদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে ৯৯টি, ২য় পর্যায়ে ২২০টি ও ৩য় পর্যায়ে ৩১০টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ে ১২০টি ঘরের নির্মাণকাজ চলমান।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে যাদের প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়া হয়েছে তারা সবাই অসহায়, ভিক্ষুক, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষসহ ছিন্নমূল অসহায় দরিদ্র মানুষ রয়েছে। এখন তারা নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ায় তাদের মাথা থেকে চিন্তা দূর হয়েছে। বর্তমানে জীবন জীবিকার মান উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে যাচ্ছে। কেউ খামার করেছে, কেউ শাকসবজি চাষ করে জীবনের মান উন্নয়ন করছে। তারা সবাই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ধন্যবাদ জানিয়েছে আশ্রয় দেওয়ার জন্য।

জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ বলেন, জেলায় ৪ হাজার ৭২১ জন ভূমিহীনের মধ্যে ৪ হাজার ১০০ জনকে ঘর প্রদান করা হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে নীলফামারীকে গৃহহীন ও ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করার লক্ষ্যে ঘর নির্মাণকাজ চলমান আছে।