• মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

  • || ২৩ শা'বান ১৪৪৫

সর্বশেষ:
ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ নিশ্চিত করুন: প্রধানমন্ত্রী কোনো অজুহাতেই যৌন নিপীড়ককে ছাড় নয়: শিক্ষামন্ত্রী স্পর্শকাতর মামলার সাজা নিশ্চিত করতে হবে: আইজিপি চলতি মাসেই একাধিক কালবৈশাখীর শঙ্কা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশদ্রোহীরা মানুষকে কষ্ট দেয়: নাছিম

সৈয়দপুরে ঐতিহ্য হারাচ্ছে কাঠের খেলনা

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২৩  

 
নীলফামারীর সৈয়দপুর বাঙালিপুর এলাকার বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন। ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে তৈরি করেন কাঠের খেলনা। কখনো বানান কাঠের ট্রাক আবার কখনো কেরকেরি গাড়ি। বানানো সেই খেলনাগুলোই বিক্রি হয় পহেলা বৈশাখ, পূজা-পার্বণ অথবা ঈদের দিনে বিভিন্ন স্থানে। তবে প্রযুক্তির প্রসারে ঐতিহ্য হারাচ্ছে কাঠের তৈরি এসব খেলনা। মোবাইল গেম কিংবা ভিডিও গেমে অভ্যস্ত হচ্ছে শিশুরা। এতে যেমন ঐতিহ্য হারাচ্ছে এ শিল্প, তেমনি খেলনা বানানো এ পেশা থেকে অন্য পেশায় যাচ্ছেন কারিগররা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় সৈয়দপুরের অর্ধশতাধিক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতেন এ পেশায়। স্থানীয় ভাষায় ট্রাক, বাঁশের বাঁশি, কেরকেরি গাড়ি, ঢোল গাড়িসহ নানা খেলনা তৈরি হতো এখানে। পহেলা বৈশাখ বা পূজা-পার্বণে চাহিদা বাড়তো কাঠের খেলনার। এসব ছাড়া যেন পূর্ণতা পেতো না কোনো মেলাই। গ্রামবাংলার খেলাধুলার একটি ঐতিহ্য ছিল এসব কাঠের খেলনা।

করোনা মহামারির আগে কোনো রকম খুঁড়িয়ে চললেও মহামারির পর থেকে থমকে গেছে এ শিল্প। কাঁচামালের দাম বাড়ায় নানা প্রতিকূলতা সৃষ্টিসহ চাহিদা না থাকায় খেলনা তৈরির কারিগররা পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।

কাঠের তৈরি এ শিল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হয় সেলিম উদ্দিনের সঙ্গে। সৈয়দপুরে বর্তমানে তিনি ও তার ভাই জাভেদ আলী ছাড়া সবাই খেলনা তৈরি ছেড়ে দিয়েছেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আগে আমরা প্রচুর ব্যস্ত সময় কাটাতাম। বিশেষ করে পূজা-পার্বণ, মেলা কিংবা ঈদ ঘিরে। কিন্তু এখন আর মানুষ এসব কেনে না। বাচ্চারা মোবাইলে গেম খেলে। গ্রামবাংলার এসব খেলনা কেউ নিতে চায় না। আগে দিনে কমপক্ষে ১ হাজার খেলনা বিক্রি হতো। এখন পুরো বছরজুড়ে ১৫ হাজার বিক্রি হয় না।’

গেলো পহেলা বৈশাখে অলস সময় পার করেছেন সেলিমের ভাই জাবেদ আলী। সামনে ঈদে কিছুটা বিক্রির আসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগেতো যাহোক ভালোই চলতো। আমার বাবা-দাদাদের পেশা এটা। তবে এখন আর চাহিদা নেই। জিনিসের দামও অনেক বেশি। করোনা থেকেতো পহেলা বৈশাখে বিক্রি নাই। এবারেও হয়নি। সামনে ঈদ, দেখি কতটা কী হয়!’

কাঠের তৈরি খেলনাসহ মৃৎশিল্প, বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র যেন হারিয়ে না যায় সেজন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল রায়হান।

তিনি বলেন, ‘আমরা ঈদের পর এ শিল্পগুলোর সঙ্গে জড়িত সবাইকে নিয়ে একটি বৈঠক করবো। যাতে তারা এটি ধরে রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে তাদের বিশেষ কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমরা তা করবো। প্রয়োজনে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’