• শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৭ ১৪৩১

  • || ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৩  

 
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পূর্ববালা গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক। বাস-ট্রেনে উঠলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ কারণে তিনি গত ১০ বছর নিজ উপজেলা শহর ছাড়া কোথাও বেড়াতে যান না। তবুও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এলাকার বাইরে ঢাকা বা অন্য কোনো স্থানে ভ্রমণ না করেও ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ তার। 

চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশা ও জীবাণু দুটোরই সমন্বয়ে রোগটি সুস্থ মানুষের শরীরে ছড়ায়। তাদের ধারণা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এডিস মশার প্রকোপ ছড়িয়েছে। 

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত এক মাসে ১৯ রোগী ভর্তি হয়েছেন নীলফামারী জেলারেল হাসপাতালে। এসব রোগীর মধ্যে ১৮ জনই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ডেঙ্গু প্রকোপ এলাকায় ভ্রমণ করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে গত ১১ জুন দুইজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী আসেন। এরপর ২৪ জুন একজন, ২৮ জুন একজন, ৩০ জুন একজন, ২ জুলাই দুইজন, ৫ জুলাই দুইজন, ১১ জুলাই একজন, ১৪ জুলাই একজন, ১৫ জুলাই একজন ও ১৬ জুলাই দুইজন রোগী আসেন। এছাড়া ১৩ জুলাই জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন, ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, ১৫ জুলাই সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজনসহ গত এক মাসে ১৯ জন রোগী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ১৩ জন চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ছয়জন।

ডেঙ্গু আক্রান্ত কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ১০ বছরের মধ্যে ঢাকায় যাইনি। আমি বাস-ট্রেনে উঠলেই অসুস্থ হয়ে পড়ি। এ কারণে জলঢাকা শহর ছাড়া এলাকার বাইরে কোথাও যাই না। এরপরও ডেঙ্গু আক্রান্তের কারণ বুঝতে পারছি না। অনেকেই ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন কাজকর্ম করেন। এলাকায় ফিরে আসলে তাদের সঙ্গে বসে বিভিন্ন গল্প করি। ঢাকা ফেরত এমন একজনের সঙ্গে গত এক সপ্তাহ আগে বসে কিছুক্ষণ কথা বলেছি। এর দুই দিন পর তার ডেঙ্গু আক্রান্তের কথা শুনতে পাই। এরপর গত শুক্রবার আমার জ্বর উপলদ্ধি হলে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা করে শনিবার ডেঙ্গু আক্রান্তের কথা জানতে পারি। পরে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হই।

এ বিষয়ে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবু-আল হাজ্জাজ বলেন, ১৯ রোগীর মধ্যে ১৮ জনেরই ভ্রমণ হিস্ট্রি আছে। কিন্তু কৃষক আব্দুর রাজ্জাকের কোনো ভ্রমন হিস্ট্রি পাওয়া যায়নি।

ভ্রমন হিস্ট্রি না থাকলেও ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশা ও জীবাণু দুটোরই সমন্বয় থাকতে হবে। এডিস মশা সাধারণত রোগীর শরীর থেকে এ রোগটি বহন করে সুস্থ মানুষের শরীরে ছড়ায়। আব্দুর রাজ্জাকের কোনো ট্রাভেল হিস্ট্রি না থাকায় ধারণা করা হচ্ছে এ এলাকায়ও এডিস মশার প্রকোপ ছড়িয়েছে।

নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, আমাদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যহত আছে। এ কার্যক্রম আমরা আরও বৃদ্ধি করবো। পাশাপাশি পৌরসভার কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশা জন্ম নেয় এমন জায়গাগুলো পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেবে।