• শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৭ ১৪৩১

  • || ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

বয়স্ক ভাতাই একমাত্র সম্বল শতবর্ষী ধৌউলী রানীর

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০২৩  

ধৌউলী রানী। বয়স প্রায় একশ। স্বামী বাওনা বর্মণের মৃত্যুর পর থেকে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়ন পরিষদের পাশে থাকেন তিনি। দুই ছেলে ও এক মেয়ের সংসারেও রয়েছে অভাব। তাই এই বয়সেও একাই থাকা-খাওয়া করেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েও মনের শক্তিতে সংসারের ঘানি টানছেন ধৌউলী রানী। এখন বয়স্ক ভাতাই তার একমাত্র সম্বল।

কথা হলে ধৌউলী রানী বলেন, ‘মোর দুই টা বেটা (ছেলে) ও একটা বেটি (মেয়ে)। সবার বিয়া হয়া গেইছে। বড় বেটা কৃষি কাজ করি খায়। ছোট বেটা চায়ের দোকান করে। ওমার (ওদের) খুব অভাব। ছাওয়া ছোটোক (ছেলে-মেয়ে) কি খোয়াবে? আর মোক কি খোয়াবে? স্বামী মারা যাওয়ার পর বয়স্ক ভাতা পাও (পাই)। ওই টাকা দিয়াই মোর একার সংসার চলে।’ 

অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি আরও বলেন, ‘আগোত ১৫০০ টাকা তিন মাস পর পাইছিনু। এলা (এখন) ১৮০০ টাকা পাও। টাকা পায়া এক বস্তা চাউল কিনি। বাকি টাকা দিয়া হাঁস-মুরড়ি কিনো। হাঁস-মুরগির ডিম বেঁচে মোর তয়তরকারি ও ওষুধ কিনিবার নাগে। ভাত-শাখ খায়া কোনো রকমে দিন পার করি। তবে, বেটাঘর (ছেলেদের বাড়ি) মাঝেমধ্যে মাছের তরকারি দেয়।’

ধৌউলী রানী বলেন, ‘আর আগের মতো কাজ-কাম করিবার পারো (পারি) না। পাও ফুলি (পা ফুলে) গেইছে। খুবেই বিষ (ব্যথা)। কয়দিন যে আর বাঁচিম (বাঁচবো)। মোর চায় (চেয়ে) ছোট ছোট মাইনষিলা (মানুষ) বাঁচি নাই। মুইয়ে এলাকার সবচেয়ে বড়।  মোর বয়স একশো বছর হইবো। কিন্তু ভোটার আইডি কাডোত (কার্ড) ৮০ বছর।’ 

ধৌউলী রানীর ছোট ছেলে গজেন চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ছোট একটা চায়ের দোকান চালাই। কোনো রকমে সংসার চলে আমার। মাকে আমার সঙ্গে খেতে বলেছি। কিন্তু মা অভাব দেখে কোনো ছেলের সঙ্গে খেতে রাজি হয়নি। মা বয়স্ক ভাতার টাকা দিয়ে একায় কোনো রকমে খান।’ 

হরিণচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাসেল রানা বলেন, ‘ধৌউলী দাদির বয়স ভোটার আইডি কার্ডে ৮০ হলেও তার আসল বয়স আরো অনেক বেশি। আমার ইউনিয়ন পরিষদের পাশে তার বাড়ি হওয়ায় সবসময় আমার কাছে আসেন। এই বসয়েও তিনি একাই বাজার-খরচ করে রান্না করে খান। ভাবতেও অবাক লাগে। তার ছেলে-মেয়েদেরও অভাবের সংসার। তিনি বয়স্ক ভাতার টাকাই তার একমাত্র সম্বল।’

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল আলম বলেন, ‘সরকার সব বয়সী মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষায় সুবিধা দিচ্ছে। বিভিন্ন ভাতা দিচ্ছে। সেই বৃদ্ধ মানুষটি বিধবা ভাতার পাশাপাশি অসুস্থ হলে সমাজসেবা দপ্তরের মাধ্যমে তার চিকিৎসা সেবার জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি সামাজিক সুরক্ষা ভাতাগুলো মানুষের অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ধৌউলী রানী।’