• রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৪ ১৪২৮

  • || ১০ সফর ১৪৪৩

সর্বশেষ:
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রত্যেক নাগরিকের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে-সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রক্তদান কর্মসূচি শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাকিমপুরের মৃৎশিল্পীরা দেশের ৬৮টি কারাগারের ৮৫ হাজার কারাবন্দিকে টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু

বিএনপিতে কাজে নেই কিন্তু পদ নিয়ে আছেন যারা   

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২১  

বিএনপির একটি বড় অংশের নেতারা শুধু পদ নিয়ে আছেন, কিন্তু কোনো কর্মকাণ্ডে নেই। কালেভদ্রে বিভিন্ন মিটিংয়ে বা অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকতা সারতে উপস্থিত হন। কিন্তু অন্য কোনো দলীয় কর্মকাণ্ড বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের দেখা যায় না। এদের অন্তত দুজন বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু সেই পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত না হওয়ার কারণে তারা এখনো বিএনপিতে আছেন বলেই নেতারা দাবি করেন। সংগঠনের কোনো কাজে তাদেরকে পাওয়া যায় না।

আর এ নিয়ে এখন বিএনপির মধ্যে নানা রকম উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকের মতে, এ রকম কর্মহীন নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপির রাজনীতি সামনের দিকে এগোনোর বদলে পেছাবে।

বিএনপির অপেক্ষাকৃত তরুণ একটি অংশ মনে করছে, বিএনপিতে যারা কোনো কাজ করছেন না, বিভিন্ন পদ নিয়ে বসে আছেন তাদের বাদ দিয়ে যারা কাজ করতে পারেন তাদের নেতৃত্বে আনা উচিত।

১. লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান: লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বিএনপির এক সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি সংস্কারপন্থী ছিলেন এবং সংস্কারপন্থী হওয়ার কারণেই বিএনপির তরুণ নেতারা তাকে লাঞ্ছিত করেছিলেন। তারপরও তিনি বিএনপিতে ছিলেন। তবে বিএনপির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পদত্যাগও করেছিলেন। রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন বলে নিজেই দাবি করেছেন। কিন্তু বিএনপি নেতারা বলেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুব এখনো বিএনপিতে আছেন। বিএনপিতে থাকলেও তিনি বিএনপির কোনো কর্মকাণ্ড বা কোনো কর্মসূচিতে নেই। বয়সের ভারের পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির আদর্শিক দিকগুলোর ব্যাপারে তার আপত্তি থাকাতেই তিনি বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কহীন বলে মনে করা হচ্ছে।

২. ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার: ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার সাবেক স্পিকার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রবীণ নেতা। কিন্তু গত দুই বছর ধরে তিনি কর্মহীন। কোনো কর্মকাণ্ডেই তাকে দেখা যায় না। শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠকগুলোতে তাকে দেখা যায়। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনি ঘরবন্দি হয়ে আছেন। বয়সের কারণে তিনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে শরিক হতে পারছেন না। তবে নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।

৩. ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া: ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির সদস্য। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। আর এ কারণেই তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেই বললেই চলে।

৪. ড. মঈন খান: ড. মঈন খান কিছুদিন আগেও বিএনপিতে সরব ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির কর্মকাণ্ডে তাকে খুব একটা দেখা যায় না। তার পারিবারিক সূত্র বলছে, করোনার কারণে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। তবে তাদের দাবি, ড. মঈন খান এখনো বিএনপির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।

৫. অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন: অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ছিলেন বিএনপির প্রধান আইনজীবী এবং খালেদা জিয়ার প্রধান কৌঁসুলি। কিন্তু নানা বাস্তবতায় তিনি এখন নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। এখন তার কর্মকাণ্ড আদালতে সীমাবদ্ধ। তবে মাঝে মাঝে তিনি খালেদা জিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

এছাড়াও বিএনপিতে বহু নেতা আছেন যারা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি ও জাতীয় কমিটিতে রয়েছেন, কিন্তু কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করছেন না। কেউ কেউ দাবি করেন যে, তারা পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তাদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি। হিসাব করে দেখা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অর্ধেক সদস্যই এখন নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। আর এ গুটিয়ে নেয়া ব্যক্তিদের কারণেই দলের কর্মকাণ্ড ঝিমিয়ে পড়েছে বলেও অনেকে মনে করেন।