রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২ ১৪২৬   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

উন্নয়নের মহাসড়কেঃ

রংপুর জেলার উন্নয়নের সেকাল-একালের চিত্রঃ পর্ব-০১

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত : ০৪:২২ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

আজকের বাংলাদেশ আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ। মাত্র এক দশক আগেও বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটত বড় একটি জনগোষ্ঠীর। অধিকাংশ অঞ্চল ছিল বিদ্যুতহীন অন্ধকারাচ্ছন্ন। অধিকাংশ ঘরবাড়ি ছিল মাটির দেয়াল অথবা পাটখড়ি বা বাঁশের বেড়া আর খড়ের ছাউনিতে তৈরি। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের সেই চিত্র আর নেই। মাত্র ১০ বছরেই পাল্টে গেছে দেশের সার্বিক দৃশ্যপট। অধিকাংশ বাড়িঘর দাঁড়িয়ে আছে ইট-সিমেন্ট অথবা টিনের ওপরে। শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের বাড়িতে জ্বলছে বিজলি বাতি। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা গ্রামাঞ্চল থেকে প্রায় বিতাড়িত হয়েছে বললেও ভুল হবে না। মঙ্গা নামক শব্দটি এখন ইতিহাস। বদলে গেছে তলাবিহীন ঝুড়ির কথিত ভাবমূর্তিও। জঙ্গী-সন্ত্রাসীরাও পড়েছে অস্তিত্বের সঙ্কটে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের মহাসড়কে। টানা ১০ বছর ধরেই উন্নয়ন-অগ্রগতির মহাসোপানে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। সরকারের গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশ্বের সামনে রোলমডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে দেশকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিলো। দেশে জঙ্গি, সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ আর উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের মহোৎসবে মেতে উঠেছিলো তারা। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে মূল্যায়ন না দিয়ে নিজেদের উন্নয়নে মশগুল ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সামনে এগিয়ে না নিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো। বিএনপির এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আচরণের জন্য নষ্ট হয় দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ। দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলকে আওয়ামী লীগের এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করে সেসব এলাকার উন্নয়ন স্থগিত করে রাখা হয়। এতে দেশ অসমর্থ হয় সঠিক সময়ে উন্নয়নের পথ পাড়ি দিতে, আর দেশের মানুষ বঞ্চিত হয় জীবন মান উন্নয়নের সুবিধা থেকে। কিন্তু জনগণ তাদের উন্নয়নের পথ দ্রুত বেছে নিতে খুব বেশি দেরি করেন নি। জনগণ আবার উন্নয়নের মশালবাহককে বেছে নিয়েছেন ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে। এরপর আর তাদের নিরাশ হতে হয়নি। টানা ১০ বছর থেকে এই দেশের জনগণের আস্থার প্রতিদান দিয়ে আসছেন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। আর বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও জনগণের জীবন মান উন্নয়নের উপহার স্বরূপ পেয়ে যাচ্ছেন মানুষের অগাধ ভালবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতা। আর এই জনগণের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন এক নতুন উচ্চতায়, বিশ্বের কাছে পরিচিত করে দিয়েছেন সোনার বাংলাদেশকে। 

দেশকে এগিয়ে নিতে সারা দেশে একই সাথে চলতেছে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ১০ বছরে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা রংপুরেও লেগেছে উন্নয়নের পরশ ছোয়া। ১০ বছর আগের রংপুর আর বর্তমান সময়ের রংপুর এক নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নমুলক কাজের আশীর্বাদপুষ্ট হয়েছে রংপুর জেলা। রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা, রেলের উন্নয়ন, মানুষের জীবন যাত্রার মান, বেকারদের কর্মসংস্থানসহ সকল ক্ষেত্রে লেগেছে উন্নয়নের ছোয়া। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার জাতীয় পার্টিকে সাথে নিয়ে একের পর এক উন্নয়ন উপহার দিয়েছেই চলেছে রংপুরবাসীকে। অন্য জেলাগুলোর সাথে সমান তালে উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে স্বপ্নের রংপুর জেলা।

বিগত ১০ বছরে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কর্তৃক রংপুর জেলার উন্নয়নে কিছু বাস্তবায়িত ও গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প নিচে তুলে ধরা হল- 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ রংপুরে অবস্থিত দেশের অন্যতম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।। দেশের উত্তরাঞ্চলীয় মানুষ বহুদিন ধরে উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছিল। এই প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন। ২০০৯ সালের ৪ এপ্রিল ৩০০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ছিল রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়। পরে মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ হয় ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়’। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সারা বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষায় অসামান্য অবদান রাখছে। বর্তমানে ২১ টি বিভাগে প্রায় ১০০০০ শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছে। এছাড়াও, ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউটে ৩০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছেন। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু সাফল্য দেখিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যান্ড ফোরাম আয়োজিত আইডিয়া প্রতিযোগিতা। ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত এই ইয়ুথ ফেস্ট প্রতিযোগিতায় পাঁচটি ক্যাটগরিতেই চ্যাম্পিয়ন হয় বেরোবির শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয় দুই ক্যাটগরিতে দেশ সেরা আইডিয়া দিয়ে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রিয়েটিভ আইডিয়া প্রতিযোগিতা স্পাইক এশিয়াতে অংশ নেয় বেরোবির চার শিক্ষার্থী। যারা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে নয় বাংলাদেশের হয়েও প্রতিনিধিত্ব করে উক্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়। ১১ বছরের পথচলায় শিক্ষা ও গবেষণা খাতে অসামান্য মেধার প্রমাণ রেখেছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগের পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এতে এখানকার মানুষের জীবন যাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। 

রংপুর বিভাগের পথচলা

রংপুর অঞ্চলের তথা রংপুরসহ সর্বউত্তরের ৮টা জেলার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় এবং উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হচ্ছে রংপুর জেলাকে বিভাগীয় দপ্তর রংপুর প্রশাসনিক বিভাগ স্থাপন করা। রংপুর বিভাগ ঘোষণার পর থেকেই এই অঞ্চলের হয়েছে আমূল পরিবর্তন। সব ধরণের সেবা মানুষের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। 

মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিপ্রায় অনুযায়ী তাঁর সভাপতিত্বে ২৫ জানুয়ারী ২০১০ইং তারিখে অনুষ্ঠিত নিকার সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগকে বিভক্ত করে গত ৯ মার্চ ২০১০ইং তারিখে বৃহত্তর রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের ৮টি জেলা (রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাও, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়) নিয়ে রংপুর বিভাগ সৃজন সংক্রান্ত সরকারী প্রজ্ঞাপন জারী হয়। বর্তমান গণতাস্ত্রিক সরকারের ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০২১‌‌’ এর কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে স্বল্প, মাধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদী কতিপয় সরকারি কর্মসূচীকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাইজেশন কর্মসূচী গ্রহণ। তরূণ প্রজন্মকে ডিজিটাইজেশন কর্মসূচীতে সম্পৃক্ত করা অন্যতম লক্ষ্য। কারণ তারা অধিকতর উদ্যোগী ও বৃদ্ধিদীপ্ত। অন্যান্য অগ্রাধিকার কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে মানসম্মত শিক্ষার প্রসার ও বিকাশ সাধন করে মানব সম্পদের উন্নয়ন, জনগণের দোরগড়ায় সেবা পৌছে দেয়া ও দুর্নীতি প্রতিরোধ। তাছাড়া বৈশিক আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে খাদ্য নিরাপত্তা বেষ্টনী বৃদ্ধি, বন্যা বাধ ও সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, পরিবার কল্যাণ সাধন, স্বাস্থ্য ও প্রজনন সেবা প্রদান, দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ সাধন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ, দেশজ সংস্কৃতি বিকাশ, যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন, রেলওয়ে অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন ও শিশু কল্যাণ ইত্যাদি। বিভাগীয় প্রশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইভটিজিং প্রতিরোধসহ বিভিন্ন অপরাধসমূহ প্রতিরোধে মোবাইল কোর্টসমূহ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ দমন ও ১৯৭১ এর মানবতাবিরোধী এবং যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার কার্যক্রমে বিভাগীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া জনগণের দোরগড়ায় ডিজিটাইজেশন কর্মসূচীর মাধ্যমে ই-সেবাসমূহ পৌছে দেয়া অন্যতম প্রাধিকার কর্মসূচী।

রংপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে গড়ে উঠেছে বিভাগীয় প্রশাসনের সব কার্যালয়। রংপুর শহরকে দিয়েছে আধুনিকরুপ। সেই সাথে দেশের দারিদ্র নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মঙ্গাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত দেশের উত্তরাঞ্চলের এ জনপদের দৃশ্যপট ক্রমানয়ে পাল্টে দেয়ার লক্ষ্যে রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। বিভাগ হওয়ায় সুবিধা পাচ্ছে রংপুর অঞ্চলের আট জেলার মানুষ। এক সময় বিভিন্ন কাজে বিভাগীয় শহর রাজশাহী যেতে হলেও বিভাগ ঘোষণার পর প্রয়োজনীয় অফিস স্থাপনের ফলে সে কষ্ট কমে এসেছে রংপুরবাসীর।  

রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু

২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পুর্বে রংপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার দুটি ট্রেন চালু ছিল। কিন্তু চারদলীয় জোট সরকারের সময় সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে। অত্র অঞ্চলের মানুষদের চরম দুর্ভোগে ঠেলে দেয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। এরপর আর নেননি কোন ব্যবস্থা, ফলে অন্ধকারে ছেয়ে যায় লাখো মানুষের স্বপ্ন। এরপর দীর্ঘ ১০ বছর পর অত্র এলাকার ত্রাতা হয়ে সামনে আসেন আওয়ামীলীগ সরকার। লাখো স্বপ্ন পূরণে ২০১১ সালের ২১ আগস্ট উদ্বোধন করেন বহুল আকাঙ্ক্ষিত রংপুর ঢাকা রুটের আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস। সেদিন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ নামে এই ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়। শুরু হয় নতুন এক পথ চলা। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার সাথে যোগাযোগ ক্ষেত্রে আসে আমূল পরিবর্তন। সম্প্রতি নতুন কোচ সম্বলিত ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।  

রংপুর সিটি কর্পোরেশন

রংপুর সিটি কর্পোরেশন বাংলাদেশের রংপুরের স্থানীয় সরকার সংস্থা এবং দেশের দশম সিটি করপোরেশন। ২০১২ খ্রিস্টাব্দের ২০ ডিসেম্বর তারিখে রংপুর পৌরসভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুর সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়।রংপুর সিটির সার্বিক উন্নয়নে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নানান উন্নয়ন মূলক কাজ করে যাছেন। বর্তমান সরকারের অর্থায়নে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বাস্তবায়িত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে- সুষ্ঠু নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কারকরণ, নগরীর গুরুত্বপুর্ণ মোড়ে সিসিটিভি স্থাপন, পানির পাম্প নির্মাণ, বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা নির্মাণ, জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন, মীরগঞ্জ-বাশোরের ঘাঘোট ব্রীজ, চিকলি বিল ব্রীজ, কংক্রিট রাস্তা নির্মাণ, বাওয়াইপাড়া ঘাঘট ব্রীজ, পরিকল্পিত দোকান ঘর নির্মাণ, পানি শোধানাগার, সড়কবাতি স্থাপন, চিকলি বিনোদন পার্ক আধুনিকরণ, যানজট নিরসন ও বাংলার ইতিহাস-সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য নগরীর ব্যস্ততম মোড়গুলোতে ভাস্কর্য নির্মাণ(বাঘচত্বর, লালবাগ; নজরুল চত্ত্বর, মুলাটোল; বিজয়গাঁথা, রংপুর সেনানিবাস ইত্যাদি), পথচারীদের জন্য ফুটপাথ নির্মাণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই সংযোগ প্রদান, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ, নগর মাতৃসদন কেন্ত্র নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সামাজিকমূলক কাজ। 

তিস্তা সড়ক সেতু

লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের তিস্তা সেতুর উদ্বোধন হয় ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে। উদ্বোধনের সাথে সাথে পুর্ণ হয় লাখো মানুষের স্বপ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের পথ খুলে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আগের মেয়াদে ২০০১ সালের ১ জুলাই তিস্তা সেতুর প্রথম দফা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে সেতু নির্মাণ কাজে শুরু হয় টালাহানা। তারা রীতিমতো ছিনিমিনি খেলতে শুরু করেন লাখো মানুষের লালিত স্বপ্ন নিয়ে। দীর্ঘ সময় পর জনতার আন্দোলনের মুখে তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০০৬ সালের ৫ অগাস্ট আবারো এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে মানুষকে মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন সেতুর কাজ। পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ সরকার আবার ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পুনরায় শুরু হয় তিস্তা সড়ক সেতুর কাজ। তাঁর ক্ষমতায়নের তিন বছরের মাথায় পূর্ণতা পায় সেতুটি। খুব দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করে ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ব্রিজটি উদ্বোধন করেন। পূর্ণতা দেন লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের। ঘুড়িয়ে দেন অত্র অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের চাকা। তিস্তা সড়ক সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় রংপুর- ঢাকসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সাথে লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রাম জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। এছাড়া এ পথে পাটগ্রামের বুড়িমারী সীমান্ত হয়ে ভারত, নেপাল, ভূটান যাতায়াতকারী ব্যবসায়ী, যাত্রী এবং পর্যটকদের বিড়ম্বনা লাঘব হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা রেলসেতু অনেকটাই ঝুঁকি মুক্ত হয়েছে এবং এ পথে যাববাহন চলাচলে থাকছে না কোন প্রতিবন্ধকতা। সেই সাথে রংপুর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। সেতুটি যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়ণের সাথে সাথে প্রসার ঘটিয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যের। 

রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলাসমূহের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেছে এই তিস্তা সড়ক সেতুটি।

গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু’ - দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু

রংপুর জেলার গঙ্গাচড়ার উন্নয়ন এবং লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে তিস্তার ওপর একটি সেতু দাবি করে আসছিলেন। সেই দাবির প্রেক্ষিতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের রুদ্ধেশ্বর ও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু’র নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে জনসাধারণের জন্য সেতুটি উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের মূল সেতুর নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ১৩১ কোটি টাকা। এ ছাড়া কালীগঞ্জের কাকিনা থেকে গঙ্গাচরার মহিপুর ঘাট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সংযোগ সড়ক নির্মাণে ১৩ কোটি টাকা এবং ওই সংযোগ সড়কে তিনটি কালভার্ট ও দুটি ছোট সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। মূল সেতু ও পুরো সড়কজুড়ে করা হয়েছে আলোর ব্যবস্থা। সেতুটি চালু হওয়ায় বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশকে ভূটান, ভারত ও নেপাল’র (বিবিআইএন) মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির পথ তৈরি হয়েছে। সেতুটি চালু হওয়ায় দেশের তৃতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর বুড়িমারীসহ লালমনিরহাটের চারটি উপজেলার সঙ্গে সারাদেশের দূরত্ব কমে এসেছে প্রায় ৫০ কিলোমিটার। এতে একদিকে চলাচলে যেমন সময় কমে এসেছে, তেমনি কমছে যাতায়াত খরচ, সেই সাথে প্রসার ঘটেছে ব্যবসা-বাণিজ্যের। সেতুটি বিভাগীয় শহর রংপুর,  রাজধানী ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে এই অঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এর আগে, লালমনিরহাট ও রংপুরের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের জন্য দুই জেলার ৬টি উপজেলার ১৮ লাখ লোকের জন্য তিস্তা নদী প্রধান অন্তরায় ছিল এবং বর্ষার সময় পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। 

এই সেতু চালু করে আওয়ামী লীগ সরকার ১৮ লাখ মানুষের সাথে অত্র অঞ্চলের উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) 

রংপুরের আইন শৃঙ্খলা আরও জোরদার করতে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আর এর ফলে বহুল প্রত্যাশিত রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের যাত্রা শুরু হয়। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম, ২০৩ দশমিক ৭২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের লোকসংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। এখানে রয়েছে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারিসহ পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজ, তিনটি সরকারি কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিশাল এই এলাকায় এতদিন একটি কোতোয়ালি থানা এবং নবাবগঞ্জ, মাহিগঞ্জ, ধাপ ও বিশ্ববিদ্যালয় চারটি পুলিশ ফাঁড়ির প্রশাসনিক কাঠামো দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কঠিন কাজটি করছিল জেলা পুলিশ। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল পুলিশ দিয়ে নগরবাসীর নিরাপত্তা দেয়া তাদের জন্য দুরূহ হয়ে পড়েছিল। ফলে অপহরণ, খুন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদকসেবন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটতেছিল পাল্লা দিয়ে। ঐতিহ্য হারাচ্ছিল শান্তির নগরী রংপুর। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের যাত্রার ফলে রংপুর নগরী তার শান্তি ফিরে পেয়েছে সেই সাথে উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের সাফল্যের এক বছর অতিবাহিত করেছে। এই এক বছরে তারা তাদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে অসংখ্য বার। সেই সাথে রংপুর মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছে রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশ। জটিল ও কঠিন মামলার জট খুলে রহস্য উম্মোচন করে দীর্ঘ মেয়াদী মামলাকে করেছে সংক্ষিপ্ত। একের পর এক সাঁড়াশি অভিযানে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে মাদকসহ ও সব অনৈতিক আস্থানা। নগরীতে উল্লেখ্য হারে কমে গেছে চুরি-ছিন্নতাই, অপহরণসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ। অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে ৪ বার শ্রেষ্ট পুরুস্কারসহ মোট ৬ বার পেয়েছে পুরুস্কার। ফলে চৌকশ কর্মকর্তাদের হাত ধরে এগিয়ে চলেছে ডিবি পুলিশ।

রংপুর মেরিন একাডেমি

রংপুর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তরের লক্ষে বর্তমান সরকারের আরও একটি বড় পদক্ষেপ হচ্ছে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় স্থাপিত রংপুর মেরিন একাডেমী। বাণিজ্য জাহাজের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ৩১ জুলাই ২০১৩ সালে রংপুর মেরিন একাডেমীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। রংপুর মেরিন একাডেমীর কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ৩১ অক্টোবর ২০১৯ ইং তারিখের মধ্যে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছ হতে আবেদনপত্র চেয়ে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। মেরিন একাডেমীতে ভর্তি হওয়ার জন্য একজন পরীক্ষার্থীকে এইচএসসি (বিজ্ঞান) বা এ লেভেল সমাপ্ত করে ক্যাডেট বাছাই পর্বের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। লিখিত (পদার্থবিদ্যা, গণিত, ইংরেজি এবং সাধারণ জ্ঞান), মৌখিক এবং শারীরিক যোগ্যতার পরীক্ষায় চুড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলে একজন পরীক্ষার্থীকে ক্যাডেট হিসেবে মেরিন একাডেমীতে ভর্তির মনোনয়ন দেওয়া হয়। জাপানের Ocean Policy Research Foundation এক পরিসংখ্যানে দেখিয়েছে আগামী ৪০ বছরে (অর্থাৎ ২০৫০ সাল নাগাদ) নৌ বাণিজ্যিক জাহাজে ৩৬৪,০০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রয়োজন দেখা দিবে। যুক্তরাজ্যের Precious Associates Limited প্রতিষ্ঠানটি এক পরিসংখ্যানে দেখিয়েছে ২০০৮ সালে বিশ্ব নৌ-বাণিজ্যিক জাহাজ বহরে কর্মকর্তার চাহিদা ছিল ৫৩৩,০০০ জন। তাই বলা যায়, দেশের পাশাপাশি সারাবিশ্বে মেরিন ক্যাডেটদের বিপুল চাহিদা, কর্মসংস্থান ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার সু্যোগ রয়েছে। তাই রংপুর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণ সাপেক্ষে তাদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আস্তে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ এটি। 

ভারতীয় ভিসা সেন্টার, রংপুর

উত্তরের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ভারতীয় ভিসা সেন্টার রংপুরে স্থাপিত হওয়ায় কমে গেছে ভিসা নিয়ে জনদুর্ভোগ। ফলে রংপুর বিভাগের মানুষকে ভিসার জন্য আর যেতে হচ্ছে না রাজশাহী, এতে সাশ্রয় হচ্ছে অর্থ ও সময়ের। শুধু তাই নয়, সহজে ভিসা প্রাপ্তির কারণে এ অঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্যেও নব-দিগন্তের সূচনা হবে বলে আশাবাদ এলাকাবাসীর। শিক্ষা, চিকিৎসা আর ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশের মানুষকে যেতে হয় প্রতিবেশী দেশ ভারতে। আর এজন্য প্রয়োজন পাসপোর্ট-ভিসার। পাসপোর্ট সহজে মিললেও ভিসা প্রাপ্তি এতদিন ছিল অনেকটা সোনার হরিণের মত। তবে সম্প্রতি রংপুরে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার চালু হওয়ায় এখন সহজেই মিলছে তা। এতে এ অঞ্চলের সবাই দারুণ খুশি। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুরের এই ভিসা কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন।

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পীরগঞ্জ, রংপুর

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে টেক্সটাইল বাংলাদেশের একটি অন্যতম সমৃদ্ধ সেক্টর। এই সেক্টরে রয়েছে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ। রংপুর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের এ সেক্টরে উন্নত ও দক্ষ হিসাবে গড়ে তুলার লক্ষে  রংপুর জেলার পীরগঞ্জ শহর থেকে ২২ কিমি ভিতরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত করেন। নয়নাভিরাম করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পীরগঞ্জ, রংপুর কলেজটি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যা বাংলাদেশের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বামী ডক্টর এম এ ওয়াজেদ মিয়া'র নামে নামকরণ করা হয়েছে। কলেজটি বর্তমানে বুটেক্স(BUTex- Bangladesh University of Textile) কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ৬ টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মধ্যে একটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং  কলেজ। বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ডঃ এম এ ওয়াজেদ মিয়া এর নামে তৈরীকৃত এই কলেজটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ তত্বাবধানে কলেজটির উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। ক্যাম্পাসটি তে রয়েছে ৬ তলা একাডেমিক ভবন ,লাইব্রেরী, সেমিনার, বিশ্ববিদ্যালয় সমমানের পর্যাপ্ত অবকাঠামো সহ কলেজটিতে রয়েছে ৬ তলা বিশিষ্ট একটি ছাত্র হল এবং একটি ছাত্রী হল, কর্মচারী ও শিক্ষকদের জন্যে রয়েছে আলাদা আবাসিক জায়গা। এছাড়াও কলেজটিতে রয়েছে বুটেক্স সমমানের আন্তর্জাতিক মেশিনারিজ সমৃদ্ধ পর্যাপ্ত ল্যাব। এছাড়াও কলেজটির প্রকল্পে রয়েছে একটি মসজিদ,একটি ফুটবল খেলার মাঠ,একটি ভলিবল ও একটি বাস্কেটবল খেলার মাঠ। হলগুলোতে রয়েছে ৪৫০ টি সিট যা নিশ্চিত করে ১ম দিন থেকে আবাসিক হলে আসন সুবিধা। ২০১৮ সাল প্রথম ব্যাচ হওয়ায় এই কলেজটি একটি র‍্যাগিং ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কলেজটিতে নিশ্চিত করা হয়েছে উন্নত যাতায়াত সুবিধার জন্যে কলেজ বাস। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুযায়ী বি.এস.সি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ৪টি বিষয়ে মোট ১২০টি আসন রয়েছে এখানে। 

রংপুর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে উচ্চশিক্ষার নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।

উপরে উল্লেখি্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ছাড়াও রংপুর অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য শহরে-গ্রামে চলতেছে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। বাস্তবায়িত হয়েছে আরও উল্লেখযোগ্য অসংখ্য প্রকল্প, যার কিছু চিত্র পরবর্তী পর্বগুলোতে তুলে ধরা হবে। বর্তমান সরকার রংপুরের উন্নয়নে একের পর এক উপহার আর চমক দিয়ে যাচ্ছেন রংপুরবাসীকে। অসংখ্য বার উল্লাসিত করেছেন রংপুরবাসীকে। সিক্ত হয়েছেন অত্র এলাকার মানুষের অভিন্দন আর ভালোবাসায়। জাতীয় পার্টিকে সাথে নিয়ে তাদের ভালোবাসা আর বিশ্বাসের প্রতিদান দিয়ে যাচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। রংপুর নগরের মানুষ জাতীয় পার্টিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলেই কখনো উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হননি রংপুর নগরী। প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সমাবেশে হেসে বলেছিলেন, “রংপুরের উন্নয়ন করে আওয়ামীলীগ সরকার আর আপনারা ভোটদেন লাঙ্গলে।” রংপুরকে খুব দ্রুত উন্নয়নের মূল ধারায় নিয়ে যেতে আওয়ামীলীগ সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আর তার প্রমাণও প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ সরকার। বর্তমান সরকারের প্রতি অত্র অঞ্চলের মানুষদের সার্বিক সহযোগিতা, আস্থা আর বিশ্বাসের প্রতিফলন এইসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। যতদিন বর্তমান সরকারের পাশে থেকে এই সহযোগিতা অব্যহত থাকবে ততদিন তার উত্তম প্রতিদান পাবে মানুষ