• বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ৬ ১৪২৮

  • || ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সর্বশেষ:
সেবা নিতে এসে কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন- ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরে বইছে শৈত্যপ্রবাহ ‘শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার’ ডিমলায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, যুবক আটক বিরলে ট্রাক্টরের ধাক্কায় পল্লি চিকিৎসক নিহত

জুমার দিনের আমল ও দোয়া কবুলের সময় 

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২২  

ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র জুমা ও জুমাবারের রাত-দিন অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ। জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়েছে। জুমার গুরুত্ব আল্লাহ তায়ালার কাছে এত বেশি যে, কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে (মসজিদে) এগিয়ে যাও এবং বেচা-কেনা (দুনিয়াবি যাবতীয় কাজকর্ম ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; যদি তোমরা জানতে। (সূরা জুমা- ০৯)।

এ দিনের বিশেষ কিছু আমলে মহান আল্লাহ বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তবে আমলগুলোও করতে হয় বিশেষ মুহূর্তে। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেসব বিশেষ মুহূর্ত ও বিশেষ আমলগুলো বর্ণনা করেছেন। সেই আমলগুলো কী?

মসজিদে আসা ও চুপ থাকা
হজরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি-

> জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে;

> উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন (অজু) করে;

> তার উত্তম পোশাক পরে এবং

> আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়;

> এরপর জুমার নামাজে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং

> দুই জনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর হয় না।

তার (ওই ব্যক্তির) এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের (সগিরা) গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়।’ (মুসনাদে আহমাদ)

অনর্থক কথাবার্তা
এ হাদিসে অনর্থক কথাবার্তা বলতে মসজিদে এসে যে কোনো ধরনের কথা না বলাকে বোঝানো হয়েছে। বিশেষ করে খুতবাহ চলাকালীন সময়ে কথা না বলে মনোযোগের সঙ্গে খুতবাহ শোনার কথা বলা হয়েছে। এমনকি কেউ যদি ওই সময় কথা বলে তাকে ‘চুপ থাক’ এমন কথা বলাও নিষেধ।

দুই জনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর হওয়া
আবার দুইজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর হওয়ার মর্মার্থ হলো, মসজিদে শেষ এসে কাতারে বসা লোকদের ফাঁক করে সামনে যাওয়াকে নিষেধ করা হয়েছে। অর্থাৎ মসজিদে এসে যেখানে জায়গা পাবে সেখানেই বসে পড়া উদ্দেশ্য।

জুমার দিন দোয়া কবুলের সময়
জুমার দিন একটি সময় আছে, যখন মানুষ আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছুর দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দেন। তোমরা সময়টি আছরের পর অনুসন্ধান কোরো।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ১০৪৮)

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এই মুহূর্তটি তোমরা আছরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কোরো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

আবু দারদা ইবনে আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে বলেছেন, ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই সেই বিশেষ মুহূর্ত। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৯)