• শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৭ ১৪৩১

  • || ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

অকারণে রমজানের রোজা না রাখার শাস্তি

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২৩  

 
রমজানের রোজা ইসলাম ধর্মে প্রধান একটি রোকন। প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বালেগ মুসলমানের ওপর রমজানের রোজা ফরজ (অবশ্য পালনীয়)। এ মাসের একটি রোজা সারাবছর রোজা রাখার চেয়েও অনেক বেশি সওয়াবের কাজ। অকারণে রোজা না রাখা কোনো মুসলমানের জন্য জায়েজ নয়।

রোজার বিধান সম্পর্কে পবিত্র কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
অর্থ: ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ১৮৩)

অন্য আয়াতে এসেছে, شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

অর্থ: ‘রমজান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোজা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তাআলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

শরিয়তসম্মত ওজর বা যথাযথ কারণ ছাড়া রোজা ভঙ্গকারীদের সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, হজরত আবু উমামা (রা.) বলেন, আমি রাসূলকে (সা.) বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ‘একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। এ সময় দুজন ব্যক্তি এসে আমার দুই বাহু ধরে আমাকে দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তারা আমাকে বলল, পাহাড়ে উঠুন।

আমি বললাম, আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তারা বলল, আমরা আপনার জন্য সহজ করে দিচ্ছি। আমি ওঠা শুরু করি এবং পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছি। সেখানে প্রচণ্ড চিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কিসের শব্দ? তারা বলল, এটা জাহান্নামিদের আওয়াজ। এরপর তারা আমাকে এমন কিছু লোকদের কাছে নিয়ে যায়, যাদেরকে পায়ের টাখনুতে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের গাল ছিন্নভিন্ন, তা হতে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তারা বললেন, এরা এমন রোজাদার যারা (অকারণে রমজান মাসের) রোজা শেষ না করেই ইফতার করত।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ১৫০৯)

রোজা রেখে সময়ের পূর্বে ইফতার করে নেওয়ার শাস্তি যদি এই হয়, তা হলে বিনা কারণে রোজা না রাখার শাস্তি কি হতে পারে তা বলাইবাহুল্য। রমজানের একটি রোজা সারাজীবনের রোজার সমতুল্য নয়; রমজানে ভেঙে ফেলা রোজার বিনিময় কোনোভাবেই দেওয়া সম্ভব নয়। একটি রোজার পরিবর্তে সারাজীবন রোজা রাখলেও তার হক আদায় হবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রয়োজন ও রোগ-ব্যাধি ছাড়া রমজানের একটি রোজা ভেঙে ফেলে, তার সারাজীবনের রোজার দ্বারাও এই কাজা আদায় হবে না, যদিও সে সারাজীবন রোজা পালন করে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৮১১)

ইমাম যাহাবি (রহ.) ‘মুমিনদের নিকটে এ কথা স্থির-সিদ্ধান্ত যে, যে ব্যক্তি কোনো রোগ ও ওজর না থাকা সত্ত্বেও রমজানের রোজা ত্যাগ করে, সে ব্যক্তি একজন ব্যভিচারী ও মদ্যপায়ী থেকেও নিকৃষ্ট। বরং মুসলিমরা তার ইসলাম নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে এবং ধারণা করে যে, সে একজন নাস্তিক ও নৈতিক স্খলিত মানুষ।’ (মাজমূউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ : ২৫/২২৫)

রমজানের ফরজ রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া মারাত্মক অপরাধ। যারা এমনটি করবে তারা মহাক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে রমজানের রোজা যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন এবং এ রোজার মাধ্যমে আমাদের কৃত গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন। আমিন।