• বৃহস্পতিবার   ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৯ ১৪২৯

  • || ০৯ রজব ১৪৪৪

সর্বশেষ:
ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে মুসলিমদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই, আমরা সবাই বাঙালি: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আইএমএফের ঋণই প্রমাণ করে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত: অর্থমন্ত্রী করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ৩.৮% প্রসারিত হয়েছে শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করার মানসিকতা পরিহার করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০২২: প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বিশ্বকাপে কী পেলাম

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২২  

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০২২: প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বিশ্বকাপে কী পেলাম               
একরাশ স্বপ্ন আর আশা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তাতে দুটি জয় পেলেও ভাগ্য বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেনি। নিজেদের শেষ ম্যাচে সেমিফাইনালে যাওয়ার সমীকরণে পাকিস্তানের বিপক্ষে হার দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে সাকিব আল হাসানের দল।
 
পাওয়া না পাওয়ার হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে তারুণ্যে ঠাসা একটা দল নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সুপার টুয়েলভ থেকে বিদায় নিলেও অপ্রাপ্তির মাঝে কিছু প্রাপ্তিও আছে দলের। 

অপ্রাপ্তি বলতে নিজেদের লক্ষ্য ঠিক রেখে সামনে আগাতে পারেনি টাইগাররা। দলীয় অপ্রাপ্তির মাঝেও প্রাপ্তি কিছু খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফর্ম্যান্স।

আসরজুড়ে বাংলাদেশের যে দিকটা সবচেয়ে চোখে লেগেছে তা হচ্ছে বাজে ব্যাটিং। যেন ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রদর্শনী সাজিয়ে বসেছিল বাংলাদেশ। তবে প্যাভিলিয়নে যাওয়া-আসার এ মিছিলেও প্রাপ্তি হলো লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। আফিফও দলের প্রয়োজন মিটিয়েছেন নিজের সাধ্যমতো।

হয়তো ভালো ব্যাটিং করতে পারেননি লিটন। তবে যে ঝলকটুকুই দেখিয়েছেন তাতে তাকে প্রশংসায় ভাসাতে হয়। ভারতকে তো একাই হারিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি। যদি না সেদিন বৃষ্টি না নামতো কিংবা লিটন পিছলে না পড়তেন তবে হিসেব-নিকেশটা অন্যরকম হতে পারতো। 

তারপরও ব্যাট হাতে মোটেই খারাপ কাটেনি তার। রানের সংগ্রহের দিক দিয়ে দুই নাম্বারে আছেন লিটন দাস।  ৫ ম্যাচে লিটনের রান ১২৭। তবে স্ট্রাইক রেটে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।  আসরজুড়ে ১৪২.৬৯ স্ট্রাইক রেটে রান করেন তিনি।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে নাজমুল হোসেন শান্তকে নেয়ায় কম সমালোচনা হয়নি। এছাড়া এই বাঁহাতি ব্যাটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ট্রলের পাত্র। তবে চলমান টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান এসেছে শান্তর ব্যাট থেকেই। এমনকি সবচেয়ে বেশি অর্ধশতও তার। তিনি হাঁকিয়েছেন সবচেয়ে বেশি চারও।

পাঁচ ম্যাচে শান্তর ব্যাট থেকে এসেছে ১৮০ রান। গড় ৩৬, স্ট্রাইকরেট ১১৪.৬৪। ফিফটি করেছেন দুটি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭১ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫৪ রান করেন শান্ত।

বাংলাদেশের পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৯৫ রান করেছেন আফিফ হোসেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শান্তর ৭১ রানই এবারের বিশ্বকাপে কোনো বাংলাদেশির সর্বোচ্চ ইনিংস।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বোলিং বিভাগে। এ বিশ্বকাপে নিজেকে অন্যভাবে চিনিয়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। আসরজুড়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন বোলিং বিভাগে। প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, রান আটকে রাখা, উইকেট তুলে নেওয়া- সবই করেছেন তাসকিন।  তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। 

আসরে ৫ ম্যাচ খেলে তাসকিনের শিকার ৮ উইকেট। ক্যাচ মিস না করলে সংখ্যাটা আর বেশি হতে পারত। একটা সময় তো উইকেট সংগ্রাহকদের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করেছিলেন এই তাসকিন। তাসকিনের এমন ফেরাটা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকল। 

পরিসংখ্যানের বিচারে টি-২০ বিশ্বকাপ ইতিহাস বাংলাদেশের জন্য খুব একটা ভালো নয়। এর আগের আসরগুলোয় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জয় ছিল সর্বসাকুল্যে একটি। 

এবারের আসরে দুই জয়ে সেই রেকর্ড ভেঙেছে সাকিবের দল। সামনে হয়তো আরও ভালো কিছুই হবে সেটা আশা করাই যায়। আগামী দুই বছর পরের সেই ভালোর আগে সুখস্মৃতি হয়ে থাকুক এবারের অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই প্রাপ্তিটুকু। দিন শেষে এটাই প্রত্যাশা সবার।