• শনিবার ২০ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ৭ ১৪৩১

  • || ১০ শাওয়াল ১৪৪৫

সর্বশেষ:
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অন্যতম নকশাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাস, আজ ৭৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। বন্যায় দুবাই এবং ওমানে বাংলাদেশীসহ ২১ জনের মৃত্যু। আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেল ও স্বর্ণের দাম। ইসরায়েলের হামলার পর প্রধান দুটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরু। ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানে।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

নীলফামারি বার্তা

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০১৮  

মসজিদ অতি পবিত্র স্থান। বলা হয় মসজিদ 'মহান আল্লাহর ঘর'। সে অনুসারে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা এই মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা, মসজিদে ইবাদত বন্দেগিসহ যাবতীয় কাজে মসজিদের প্রতি নিবেদিত।

মসজিদকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা ছিল মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর আমলে। বিশ্বের এখনো বেশ কয়েকটি দেশে মসজিদভিত্তিক সমাজ উন্নয়ন ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে সুলতানি ও মুঘল আমলের মসজিদ নির্মাণশৈলী অত্যন্ত সুন্দর ও প্রশংসনীয়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখনো সুলতানি আমলের মসজিদ ও মুঘল আমলের মসজিদ প্রাচীন কীর্তি হিসেবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য ইন্টারনেট ঘেঁটে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দৃষ্টিনন্দন মসজিদগুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্তকারে বর্ণনা তুলে ধরা হলো।

(১) মসজিদ-আল-হারাম, সৌদি আরব:

 

1.পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান, যা কাবাকে ঘিরে অবস্থিত। সৌদি আরবের মক্কা শহরে এর অবস্থান। ভেতরের ও বাইরের নামাজের স্থান মিলে মসজিদের বর্তমান কাঠামো প্রায় তিন লাখ ৫৬ হাজার ৮০০ বর্গমিটার (৮৮.২ একর)। মসজিদ আল হারামে মোট মিনারের সংখ্যা ৯টি এবং সর্বোচ্চ উচ্চতা ৮৯ মিটার (২৯২ ফুট)।

বর্তমানে প্রায় নয় লক্ষ মুসল্লী একসঙ্গে এই বৃহৎ মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারেন। এ পর্যন্ত মোট চারবার এই মসজিদের সম্প্রসারণ কার্য পরিচালিত হয়। সর্বশেষ ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদ আল হারামের চতুর্থ সম্প্রসারণ কার্য‌ শুরু হয় যা ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তৎকালীন বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ মসজিদের ধারণ ক্ষমতা ২০ লক্ষে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেন। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে বাদশাহ মারা যাওয়ার পর তার উত্তরসূরি সালমান বিন আবদুল আজিজ এই সম্প্রসারণ চালু রেখেছেন।

হজের সময় এখানে উপস্থিত হওয়া মানুষের জমায়েত পৃথিবীর বৃহত্তম মানব সমাবেশের অন্যতম। এই মসজিদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো হল: কাবা শরীফ, হাজরে আসওয়াদ, মাকামে ইব্রাহিম, সাফা ও মারওয়া, জমজম কূপ (কথিত আছে, ফেরেশতা হজরত জিবরাঈল (আ.) এর পায়ের আঘাতে মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই পানির কূপের সৃষ্টি হয়)।

(২) মসজিদে নববী, সৌদি আরব:

 

2.পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

হজরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মসজিদ, যা বর্তমান সৌদি আরবের মদিনা শহরে অবস্থিত। গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদুল হারামের পর মসজিদে নববীর স্থান। হজরত মুহাম্মাদ (সা.) হিজরত করে মদিনায় আসার পর এই মসজিদ নির্মিত হয়। তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে এই মসজিদের নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিলেন।

এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। এখানে অবস্থিত সবুজ গম্বুজটি খুবই গুরত্বপূর্ণ। এটি আয়েশা (রা.) এর বাড়ি ছিল। এখানে হজরত মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর ইন্তেকাল পরবর্তী সময়ের দু'জন খলিফাকে দাফন করা হয়। ১২৭৯ খ্রিস্টাব্দে কবরের ওপর একটি কাঠের গম্বুজ নির্মিত হয়। এটি পরবর্তী সময়ে ১৫০০ শতাব্দীতে কয়েকবার এবং ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে একবার পুনর্নির্মিত ও সৌন্দর্যবর্ধিত করা হয়। ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম রঙ সবুজ করা হয়, ফলে এর নাম সবুজ গম্বুজ হয়েছে।

(৩) মসজিদুল আকসা, জেরুজালেম:

 

3.পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

আল আকসা মসজিদ বাইতুল মুকাদ্দাস নামেও পরিচিত। জেরুজালেমের পুরনো শহরে এটি অবস্থিত। এটির সঙ্গে একই প্রাঙ্গনে কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। স্থাপনাগুলোসহ এই পুরো স্থানটিকে হারাম আল শরিফ বলা হয়।

এছাড়া স্থানটি 'টেম্পল মাউন্ট’ নামে পরিচিত এবং ইহুদি ধর্মে পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মিরাজের রাতে মসজিদুল হারাম থেকে আল আকসা মসজিদে এসেছিলেন এবং এখান থেকে তিনি ঊর্ধ্বাকাশের দিকে যাত্রা করে মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এটি ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। বর্তমানে পুরনো শহর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। তবে মসজিদটি জর্দানি বা ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন ওয়াকফর তত্বাবধানে রয়েছে।

(৪) দ্বিতীয় হাসান মসজিদ, মরক্কো:

 

4.পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

মরক্কোর মাটিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পানিতে ভাসমান দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের নাম গ্র্যাণ্ড মস্ক হাসান-২ বা দ্বিতীয় হাসান মসজিদ। একে ভাসমান মসজিদ বলার কারণ হচ্ছে, মসজিদটির তিন ভাগের এক ভাগ আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর অবস্থিত। দূরের কোনো জাহাজ থেকে দেখলে মনে হয়, ঢেউয়ের বুকে যেন মসজিদটি দুলছে আর মুসল্লীরা যেন পানির ওপর নামাজ পড়ছেন।

মহাসাগরে ভাসমান এ মসজিদটি মরক্কোসহ সমগ্র আফ্রিকার সবচেয়ে বড় মসজিদ। ঝড়বৃষ্টির সময় ছাড়া প্রাকৃতিক আলো ও মুক্ত বাতাস প্রবেশ করায় মসজিদটির ছাদ তিন মিনিট পর পর খুলে যায়। ৩৩ ফুট সমান উচ্চতার সামুদ্রিক ঢেউ সামলে নেয়ার ব্যবস্থা আছে মসজিদটিতে। সমুদ্রের কোনো গর্জন শোনা যায় না মসজিদে। ২২.২৪ একর জায়গায় অবস্থিত এ মসজিদের মূল ভবনের সঙ্গে আছে সভাকক্ষসহ লাইব্রেরী, পবিত্র কোরআন শিক্ষালয়, অজুখানা।

প্রায় আড়াই হাজার পিলারের ওপর স্থাপিত এ মসজিদের ভেতরের পুরোটায়ই টাইলস বসানো। মসজিদ এলাকার আশপাশ সাজানো হয়েছে ১২৪টি ঝর্ণা ও ৫০টি ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি দিয়ে। শুধু তাই নয়, কোথাও কোথাও এসব মোড়ানো হয়েছে স্বর্ণের পাত দিয়েও।

মসজিদটির মিনারের উচ্চতা ২১০ মিটার, যা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতার মিনার। ৬০ তলা ভবনের সমান এ মিনারের ওপর রয়েছে লেজার রশ্মি, যা নাবিকদের দেখিয়ে দেয় পবিত্র কাবা শরিফের পথ। ৩০ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যায় এই লেজার রশ্মি। মরক্কোর বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান মসজিদটি নির্মাণ করেন।

(৫) সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদ, ব্রুনাই:

 

5.পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দৃষ্টিনন্দন মসজিদ

১৯৫৮ সালে ঐতিহাসিক ও দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদ নির্মাণকাজ শেষ হয়। মসজিদটি ব্রুনাইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানে অবস্থিত। মসজিদটির প্রধান গম্বুজের বাইরের অংশ সম্পূর্ণ খাটি সোনা দিয়ে তৈরি।

পাঁচ একর জমির ওপর অবস্থিত ভেতরের অংশে একসঙ্গে তিনহাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটি নির্মাণে অত্যন্ত মূল্যবান গ্রানাইট, মার্বেল ও ক্রিস্টাল ব্যবহার করা হয়।