• শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২৮ ১৪৩১

  • || ০৫ মুহররম ১৪৪৬

নীলফামারীতে ছুরিকাঘাতে আহত ইমামের মৃত্যু

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৬ জুলাই ২০২৪  

দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত ইমাম আবুল হোসেনের মৃত্যু হয়েছেন। শনিবার (৬ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এর আগে গত সোমবার (১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নীলফামারী এশিয়ান হাইওয়ে রোডের পল্লি বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। মৃত আবুল হোসেন সদর উপজেলার কানাইকাটা তেঁতুলতলা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব ছিলেন এবং তার বাড়ি লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের সহদেব বড়গাছা গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজ পড়ে সাইকেলযোগে কানাইকাটা তেঁতুলতলা ঘুন্টিরপাড়ে মক্তবে পড়াতে যান আবুল হোসেন। হরতকিতলা পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে করে এসে কে বা কারা তার চোখে প্রথমে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে সটকে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এক অটোচালক তাকে উদ্ধার করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে শনিবার (৬ জুলাই) সকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুর রহিম জানান , গত সোমবার আবুল হোসেনকে গুরুতর আহত অবস্থায় নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় তার। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে আবুল হোসেনের ছোট ছেলে গোলাম মোস্তাফা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে নীলফামারী হাসপাতালে যাই। সেখানকার দায়িত্বে থাকা ডাক্তার বাবার অবস্থার অবনতি দেখে তাৎক্ষণিক রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন। শনিবার ভোরে মারা যান তিনি। কে বা কারা এমন নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করেছে জানি না। তিনি তো কোনো অপরাধী ছিলেন না। কেন হত্যা করলো আমার বাবাকে। আমরা বাবা হত্যার ন্যায় বিচার চাই।’

শনিবার সকালে নীলফামারী সদর থানার ওসি তানভীরুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘কী কারণে, কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সবদিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরো বলেন, মরদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।