• শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৩ ১৪৩১

  • || ১১ মুহররম ১৪৪৬

সর্বশেষ:
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ই আইন হিসেবে গণ্য হবে: জনপ্রশাসনমন্ত্রী। ২৫ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসির সব পরীক্ষা স্থগিত।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড জিয়া: যুবলীগ চেয়ারম্যান

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৩  

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাস্টারমাইন্ড (মূল পরিকল্পনাকারী) ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। এমন মন্তব্য করে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ তার মরণোত্তর বিচার দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন এবং বিচারের দাবি করেন।  

‘জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার, ৭৫ এর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যকর, ২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর এবং বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধ করা’র দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচির আয়োজন করে যুবলীগ।

শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড আসলে ৭১ এর পরাজিত শক্তি ও তাদের আন্তর্জাতিক দোসরদেরই ছিল। এটি ছিল সুদূরপ্রসারী ও সুপরিকল্পিত একটি গণহত্যা। এর মূল লক্ষ্য ছিল এ দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধুকে চিরতরে বিলীন করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র। কারণ, আমরা দেখেছি, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরপরই পাকিস্তানি ভাবধারায় এ দেশ পরিচালিত হতে থাকে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল, তারা আসলে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকেই হত্যা করতে চেয়েছিল। হত্যা করতে চেয়েছিল এ দেশের মানুষের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। আমরা যদি কিছু ট্রেন্ড ও প্যাটার্ন দেখি, তাহলে আমরা বুঝতে পারব, কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে জড়িত ছিল এবং কীভাবে জিয়াউর রহমান এই হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করেছিল।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে ১৯৭১ এ নির্বিচারে নারী-শিশু হত্যা করা হয়েছিল, ঠিক সেই আদলে ৭৫ এ ঘরে ঢুকে নারী-শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে এদেশের মানচিত্র থেকে চিরতরে মুছে ফেলার নীল নকশা বাস্তবায়ন করার জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।

১৫ আগস্টের সুবিধাভোগী কারা, এই প্রশ্ন রেখে পরশ বলেন, কারা এই হত্যাকাণ্ডের পর রাতের অন্ধকারে দল গঠন করল? কারা রাতের অন্ধকারে একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে সপরিবারে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে শত শত মুক্তিযোদ্ধা আর্মি অফিসারকে হত্যা করল? এই প্রশ্নের উত্তরেই প্রমাণিত হয়, স্বাধীনতা যুদ্ধের পরাজিত শক্তি এবং তার দোসর কুখ্যাত মেজর জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্টের মূল সুবিধাভোগী। সবচেয়ে অগণতান্ত্রিক পন্থায় যদি কোনো দল গঠন হয়ে থাকে, সেই দলের নাম হলো বিএনপি।

যুদ্ধাপরাধীদের কারা এদেশে প্রতিষ্ঠিত করেছে, এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কারা তাদের (যুদ্ধাপরাধী) রাজনীতি করার অধিকার দিল? কারা তাদের সংসদে বসিয়েছিল? কারা তাদের বন্ধু? কারা ২০০১ সালে এখানে (বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ) হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল? কারা একটি বিরোধী দলকে নিঃশেষ করে দেওয়ার পাঁয়তারা করেছিল? একটি চিন্তা, মনন, চেতনা ও বিশ্বাসকে হত্যা করতে চেয়েছিল কারা? এ থেকে প্রমাণিত হয় জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড। তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্রকে নিয়ে তার এই মাস্টারপ্ল্যান।

সবাইকে সচেতন ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা এই খুনিদের প্রশ্রয় দেবেন না। আজ এই খুনিরা রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়। যে মুচলেকা দিয়ে চলে গেছে, যার বিরুদ্ধে রায় আছে, সে বক্তব্য দেয়, সেই বক্তব্য প্রচারিত হয়। তাতে দেশের সাধারণ জনগণ বিভ্রান্ত হয়।

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনুদ্দিন রানা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে তারা স্মারকলিপি পেশ করতে নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে রওনা হন।