ব্রেকিং:
দেশে নতুন করে লকডাউনের কোন চিন্তা-ভাবনা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
  • সোমবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৮

  • || ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

সর্বশেষ:
অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ুন- প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে মৈত্রী দিবস পালন করবে ঢাকা-দিল্লি রংপুরে এখন মঙ্গা নেই, উন্নয়ন দৃশ্যমান: বাণিজ্যমন্ত্রী হাবিপ্রবিতে ইউনিটভিত্তিক ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু ট্রাকচাপায় ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি নিহত

তিন মাসে ৯০ কোটি টাকা সাশ্রয় জাহাজ কোম্পানির

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০২১  

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে পণ্যভর্তি কনটেইনার জাহাজের বড় ধরনের জট চলছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহনে। কিন্তু পুরোপুরি ব্যতিক্রম দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর। আগস্ট, সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর—এই তিন মাসে মোট কনটেইনার জাহাজের ৪১ শতাংশ কোনো অপেক্ষা ছাড়াই জেটিতে ভিড়েছে। অর্থাৎ পণ্যবাহী একটি জাহাজ বহির্নোঙরে পৌঁছার পর দিনে দিনেই জেটিতে ভিড়তে পেরেছে। চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় এটি বড় ধরনের অগ্রগতি বিবেচিত হচ্ছে। 

সাধারণত বহির্নোঙরে পৌঁছার পর পণ্যভর্তি কনটেইনার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়তে তিন দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়—এটাকেই স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেন জাহাজ পরিচালনাকারীরা। জুলাই মাস পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত ছিল, কিন্তু গত আগস্ট মাস থেকে সেই অপেক্ষমাণ সময় অনেকটাই কমে এসেছে। অবস্থার এতটাই উন্নতি হয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ কনটেইনার জাহাজ তিন দিন অপেক্ষার পর জেটিতে ভিড়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে ২০০৭ সালের পর নতুন করে কোনো জেটি-টার্মিনাল তৈরি হয়নি। এই সময়ে পণ্য ওঠানামার পরিমাণও কমেনি। পণ্যবাহী জাহাজ আসার সংখ্যা না কমে অনেক বেড়েছে। তাহলে বিদ্যমান জেটি দিয়ে কিভাবে এই অগ্রগতি হলো জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, ‘বেশ কিছু কৌশলের সফল বাস্তবায়নেই এই সুফল মিলেছে। এর মধ্যে অন্যতম জেটিতে কনটেইনার জাহাজের কোটা বাড়ানো, বেসরকারি অফডকে আমদানি পণ্য স্থানান্তর। বেশি কনটেইনারভর্তি বড় জাহাজকে জেটিতে ভিড়তে উৎসাহিত করা এবং নির্দিষ্ট সময়ে পুরো জাহাজ বোঝাই করে বন্দর জেটি ছেড়ে যাওয়া নিশ্চিত করা।’  

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি বিষয় আমি খুব কাছ থেকে নিবিড়ভাবে তদারক করছি। আর বন্দর ব্যবহারকারীদের সবার সমন্বিত উদ্যোগে আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। এখন আমরা এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বন্দরের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করতে চাই।’

চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ ওঠানামার তথ্য সংগ্রহ করে গত আগস্ট মাস থেকে নিজ উদ্যোগে একটি তালিকা তৈরি করে পর্যবেক্ষণ করেছেন সাইফ মেরিটাইম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ জহীর। সেই তালিকায় গড়ে ৪১ শতাংশ জাহাজ জেটিতে ভিড়েছে কোনো অপেক্ষা ছাড়াই। ৩৭ শতাংশ জাহাজ ভিড়েছে মাত্র এক দিন অপেক্ষার পর। সাড়ে ১৫ শতাংশ জাহাজ ভিড়েছে দুই দিন বহির্নোঙরে অপেক্ষার পর। সাড়ে ৭ শতাংশ জাহাজ ভিড়েছে তিন দিন অপেক্ষার পর।

আবদুল্লাহ জহীর বলেন, ‘গত তিন মাসে গড়ে ৪১ শতাংশ জাহাজ অন অ্যারাইভাল বার্থিং পেয়েছে, অর্থাৎ কোনো অপেক্ষা ছাড়াই জেটিতে ভিড়েছে। এই জাহাজগুলোকে কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই তিন দিন অপেক্ষায় থাকতে হতো। এর ফলে জাহাজের আকারভেদে ১০ থেকে ১২ হাজার মার্কিন ডলার সাশ্রয় হয়েছে।’

হিসাব করে দেখা গেছে, তিন মাসে ১৭৬টি কনটেইনার জাহাজ দিনে দিনেই জেটিতে ভিড়তে পারায় প্রতি জাহাজে প্রতিদিন ১০-১২ হাজার মার্কিন ডলার সাশ্রয় হয়েছে। সেই হিসাবে তিন দিনের সাশ্রয় হয়েছে ৫৮ লাখ আট হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ৫০ কোটি টাকার বেশি।

শূন্য, এক, দুই দিন পর্যন্ত জাহাজগুলোর মোট সময় সাশ্রয়ের খরচ হিসাব করলে সাশ্রয় দাঁড়ায় কমপক্ষে ৯০ কোটি টাকা। এই বিপুল টাকা সাশ্রয় হয়েছে জাহাজ পরিচালনাকারী কম্পানিগুলোর। কিন্তু পরিবহন ভাড়া না কমায় এর সুফল আমদানিকারকরা পাচ্ছে না।

ফল আমদানিকারক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘জাহাজে পরিবহন ভাড়া কমানো আকাশকুসুম বিষয়; সেই আশা আমরা স্বপ্নেও দেখি না। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট না থাকার সুফল হিসেবে আমরা অনটাইমে পণ্যগুলো পেয়ে যাচ্ছি। এটাই আমাদের জন্য স্বস্তির। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে জাহাজজটের অজুহাতে আমরা কিন্তু বাড়তি ভাড়া দিয়ে পণ্য আমদানি করছি। এতে পণ্যের আমদানি খরচও বাড়ছে। সুতরাং পণ্যের দাম কমবে কিভাবে?’

সময়-অর্থ দুটোর সাশ্রয় হওয়ায় জাহাজ কম্পানিগুলো এখন মাসে দুটির বদলে তিনটি ট্রিপ দিতে পারছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘কনটেইনারে আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে ভাড়া আগেই নির্ধারিত থাকে; ফলে এখন চাইলেই জাহাজ কম্পানিগুলোর কাছ থেকে সেই সুবিধা মিলবে না। কারণ বিশ্বজুড়েই এখন জাহাজ ভাড়া অনেক বেশি। আর ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোতে জাহাজজট আছে।’ তিনি বলেন, তবে সময়ের যে সাশ্রয় হচ্ছে সেই সুবিধা পাচ্ছেন আমদানিকারকরা। এতে ১০ দিনের পণ্য আট দিনেই সে পেয়ে যাচ্ছে। আমদানি পণ্য আগেভাগেই কারখানায় নিয়ে উৎপাদন করে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই রপ্তানি করতে পারছে।